ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ব্যাঙ্ক ঋণ ও আর্থিক বৃদ্ধিতেও শীর্ষে বাংলা

রাজ্যের যুবদের কর্মসংস্থানের জন্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে বরাবর হাতিয়ার করতে চেয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাম্প্রতিক সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, মুখ্যমন্ত্রীর সেই ভাবনাকে ঘিরে সাফল্যের নজির গড়ছে বাংলা। গোটা দেশে গাড়ি, রিয়েল এস্টেট-সহ একাধিক শিল্পক্ষেত্র যখন মন্দার কবলে, অনুৎপাদক সম্পদের (এনপিএ) কারণে ব্যাঙ্কগুলি যথেষ্ট ঋণ দিতে পারছে না, তখন ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পে ব্যাঙ্ক ঋণ পাওয়ার নিরিখে দেশের মধ্যে এক নম্বরে পৌঁছে গেল পশ্চিমবঙ্গ।

নতুন বিনিয়োগ হচ্ছে না। যে কারণে দেশের জিডিপি-র হার কমছে। এই প্রতিকূল অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতেও জিএসডিপিতে দেশের মধ্যে প্রথম সারিতে রয়েছে বাংলা। রাষ্ট্রায়ত্ত, বেসরকারি ও সমবায় ব্যাঙ্কগুলি থেকে প্রাপ্ত ঋণই ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রধান মূলধন। অনুৎপাদক সম্পদের কারণে ব্যাঙ্ক ও এনবিএফসি (নন-ব্যাঙ্কিং ফিনানশিয়াল অর্গানাইজেশন) ঋণ প্রদান করতে না পারায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ক্ষতি হয়েছে। সেই জায়গায় পশ্চিমবঙ্গের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সমস্ত রাজ্যকে টেক্কা দিয়ে ব্যাঙ্কগুলি থেকে রেকর্ড ঋণ পেয়েছে।

২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে রাজ্য সরকার ও ব্যাঙ্কগুলির কমিটি এসএলবিসি (স্টেট লেবেল ব্যাঙ্কার্স কমিটি)-র বৈঠকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ৫০ হাজার কোটি টাকা ঋণ প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছিল। সেই লক্ষ্যমাত্রাকে টপকে গিয়ে ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে রাজ্যের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ৫৬ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা ঋণ পেয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষেও রাজ্যের বেঁধে দেওয়া লক্ষ্য ছাপিয়ে গিয়েছিল বাংলার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প। ওই অর্থবর্ষে ৩৮ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে রাজ্যের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ৪৪ হাজার ৫৯ কোটি টাকা ঋণ পেয়েছিল।

বিধানসভায় এই সব তথ্য তুলে ধরে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ঋণ পাওয়ার নিরিখে দেশের মধ্যে বাংলা এক নম্বর বলে দাবী করেছেন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। তাঁর কথায়, ‘নিয়মিত এসএলবিসি-র বৈঠক, ঋণ প্রদান প্রক্রিয়ায় ধারাবাহিক তদারক করার কারণেই এই বৃদ্ধি। দেশের মধ্যে বাংলা এক নম্বরে।’

একই সঙ্গে অর্থ দপ্তর কৃতিত্ব দিচ্ছে পরিকাঠামোর প্রসারকেও। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বৃদ্ধির জন্য ক্লাস্টার নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। এই পরিকাঠামো তৈরীর ক্ষেত্রে বাম জমানার তুলনায় তৃণমূল জমানায় রেকর্ড উন্নতি হয়েছে বলে অর্থ দপ্তরের দাবী। অমিত মিত্রের কথায়, ‘২০১১ সালে রাজ্যে মাত্র ৪৯টি ক্লাস্টার ছিল। এখন তা বেড়ে হয়েছে ৫২০টি। আর্থিক মন্দা ও ব্যাঙ্কের অনুৎপাদক সম্পদের কারণে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ধুঁকতে থাকলেও বাংলার ক্ষেত্রে ঠিক উল্টো চিত্র।’

অর্থমন্ত্রী জানান, ব্যাঙ্কগুলির ঋণ প্রদানে আগ্রহের আরও একটি কারণ, এই রাজ্যে ঋণখেলাপের প্রবণতাও নগণ্য। এ দিন অমিত মিত্র বলেন, ‘বানতলায় এশিয়ার বৃহত্তম লেদার ক্লাস্টার হয়েছে। হাওড়ার জগদীশপুরে দেশের বৃহত্তম হোশিয়ারি পার্ক হয়েছে। ডোমজুড়ে জেমস ও জুয়েলারি পার্ক হয়েছে। শুধু বানতলায় পাঁচ লক্ষ লোকের কর্মসংস্থান হচ্ছে।’

ব্যাঙ্ক ঋণের পাশাপাশি বেসরকারি শিল্পে বিনিয়োগের হারের বৃদ্ধি রাজ্য অক্ষুণ্ণ রেখেছে। অমিত মিত্র-র বক্তব্য, ‘বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন থেকেই প্রকল্পের বাস্তবায়ন হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে মোট ২৬ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে ৪৬ হাজার ৯৬ কোটি টাকা হয়েছে। মোট ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।’

The post ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ব্যাঙ্ক ঋণ ও আর্থিক বৃদ্ধিতেও শীর্ষে বাংলা appeared first on Sabuj Bangla.

ক্লিক করে পড়ুন ‘সাতসকাল’ ই-খবরের কাগজ

The post satsakal 08-05-2021 appeared first on satsakal.com.