মাথা ব্যথা থেকে জ্বালা পোড়া কমানো, ঘিয়ের কত উপকার জানেন?

কে কবে কী ঘি খেয়েছে, এখনও তার গন্ধ শুঁকছে….. এই প্রবাদ এখনও অনেকেই বলে থাকেন, কোনও মানুষের আত্মপ্রচারকে লঘু করে দেখাতে। ঘি আপাতত ওই প্রবাদেই নিয়মিত তার জায়গা বজায় রেখেছে। নইলে খাওয়ার পাতে ঘি তো আজকাল আমরা প্রায় ব্রাত্য করে ফেলেছি। কারণ আমাদের সকলেরই স্বাস্থ্য সচেতন হতে গিয়ে মাথা খারাপ হওয়ার অবস্থা। আজ তালিকা থেকে এই বাদ, তো কাল ওই বাদ। কিন্তু এই ঘি, যা একটা সময়ে রোজ খাওয়ার শুরুতে আমাদের পাতে থাকত, তাকে দিন দিন আমরা দূরে সরিয়ে দিলাম, তাতে বেশ কিছু স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যাকে কিন্তু আমরা আরও আপন করে নিলাম। বেদ, আয়ুর্বেদ থেকে শুরু করে মহাভারত সব জায়গাতেই এই ঘিয়ের আলাদা জায়গা আছে। কারণ এতে স্বাস্থ্য ভালো থাকে। গরুর খাঁটি দুধ থেকে যে ঘি তৈরি হয়, তাতে রাসায়নিক থাকে না একেবারেই। তাই তা খাঁটি এবং উপকারি। তবে তা তৈরি করতে বেশ কিছুটা সময় লাগে। দিনের পর দিন সময়ের অভাবে মানুষ মাখনকে বেশি করে আপন করেছে, আর ঘি কে ব্রাত্য করে ফেলেছে। কারণ মাখন অনেক কম সময়ে তৈরি করা যায় সহজে। এতে আমাদেরই ক্ষতি হয়েছে। যেখানে রুটি, সব্জি, ডাল, ভাতে ঘি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ছিল, সেখানে আজকাল মাখন বা তেলে আমরা কাজ চালিয়ে নিচ্ছি। কিন্তু ঘিতে কী কী উপকার জানেন কি?

হজমে সাহায্য করে
এতে থাকা লিনোলেয়িক অ্যাসিড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফ্যাট হজম করানো ভিটামিন এ, ই, ডি এবং ওমেগা থ্রি আমাদের অন্ত্রের যত্ন নেয়। সহজে সেখানে কোনও সমস্যা হয় না। গ্যাসট্রোইন্টেস্টাইনাল ট্র্যাক্টকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। হজম হয় সহজেই।

জ্বর, এপিলেপ্সি, অ্যাসিডিটি কমায়
ঘি আমাদের হাইপার অ্যাসিডিটির সমস্যা কমিয়ে দেয়, ম্যাল অ্যাবসর্পশান, ক্রনিক ফিভার, এপিলেপ্সি কমিয়ে দিতে সাহায্য করে। এমনকি মাথা ব্যথা হলেও আপনি যদি ঘি খান, সমস্যার সমাধান হতে পারে। তাই ঘি-এর উপর ভরসা করাই যায়।

জ্বালা পোড়া কমায়
কোথাও হঠাৎ করে কিছুটা ছ্যাঁকা লাগলে, পুড়ে গেলে, জ্বালা করলে ঘি লাগিয়ে দিন সেখানে, অনেকটাই উপশম হবে তাতে। এমনকি চামড়ার কোথাও যদি খুব খসখসে হয়ে যায়, তাহলে সেখানে ঘি আর মধু লাগালে চামড়া অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে যায়।

ঠাণ্ডা লাগা কমাতে সাহায্য করে
বুকে কফ জমে গেলে সমস্যা বাড়তে থাকে, আমরা বারবার অ্যান্টিবায়োটিক খেতে থাকি। কিন্তু তার বদলে আপনি যদি ঘি খান, তাতে সমস্যা অনেকটাই কমে যেতে পারে। ঘি তে থাকা ফ্যাট আপনার শরীরে গুড ফ্যাটের কাজ করে। আর সেই ফ্যাটই আপনার শরীরের টক্সিক পদার্থগুলোকে শরীর থেকে বের করে দিতে সাহায্য করে। তাই অনায়াসেই আপনি ঘি এর উপর ভরসা করতেই পারেন।

অ্যান্টিব্যাকটিরিয়াল, অ্যান্টিফাঙ্গাল প্রপার্টি
ঘি তে থাকা অ্যান্টিব্যাকটিরিয়াল এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল প্রপার্টি কোনও সংক্রমণকে সহজে সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে। মূলত সন্তান প্রসবের পরে যতটা সম্ভব ঘি খেতে বলা হত তাই আগেকার দিনে। কারণ এতে প্রকৃতিগতভাবে শরীরের ক্ষত গুলো মেরামত হতে থাকে। এছাড়াও কারও নার্ভের সমস্যা থাকলে, ঘি রোজ খেলে, সেই সমস্যা থেকে ধীরে ধীরে অনেকটাই সরে আসা সম্ভব হয়।

কাজেই এই হাল্কা সোনালি তরলের গুণ অনেক। হাল্কা নোনতা স্বাদ ও প্রোটিনে ভরপুর এই ঘি রোজ আপনার খাওয়ার পাতে থাকতেই পারে অনায়াসে। তেল বা মাখনের বদলে পাঁউরুটি, রুটি, পরোটা, ভাত, সব্জি, ডালে মেশান ঘি। আর সুস্থ থাকুন অনেকগুলো দিন।

The post মাথা ব্যথা থেকে জ্বালা পোড়া কমানো, ঘিয়ের কত উপকার জানেন? appeared first on Lifestyle.

ক্লিক করে পড়ুন ‘সাতসকাল’ ই-খবরের কাগজ

The post satsakal 06-05-2021 appeared first on satsakal.com.