দেশজোড়া আন্দোলনের অভিমুখ ঘোরাতেই কি জেএনইউ-তে এই কান্ড ঘটানো হল?

জেনএনইউ কান্ড নিয়ে কয়েকটি প্রশ্ন উঠছে

বিকাশচন্দ্র ঘোষ: দেশজোড়া আন্দোলনের অভিমুখ ঘোরাতেই। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন এবং এনআরসি ইস্যুতে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে যখন আন্দোলনের ঢেউ ঠিক তখনই বিরোধীদের হাতে এলো আরও এক নতুন ইস্যু। জেএনইউ কান্ড। রাতের অন্ধকারে মুখে মুখোশ পড়ে একদল হামলাকারী হামলা চালাল দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে। ওই দুষ্কৃতী দল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় লেডিস হোস্টেল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক জায়গায়। ছাত্র সংসদের সভাপতি ঐশী ঘোষ থেকে শুরু করে রক্তাক্ত হন অনেক পড়ুয়া। আক্রমণের হাত থেকে রেহায় পাননি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকাও।

জেএনইউ-এর অভ্যন্তরে দুষ্কৃতী তাণ্ডবের এই ঘটনা নিয়ে উঠছে অনেক প্রশ্ন। দেশের বিজেপি বিরোধী সমস্ত রাজনৈতিক দল এবং ছাত্র সংগঠনগুলি এক সুরে রবিবারের রাতের ঘটনায় বিজেপি এবং আরএসএসকেই দায়ি করেছে। আবার বিজেপির তরফে পাল্টা অভিযোগ করে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাম ছাত্র সংগঠনের দিকেই আঙুল তোলা হয়েছে।

এই ঘটনার তদন্তে পুলিশের ভূমিকা বড় প্রশ্নের মুখে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযুক্ত কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। দিল্লির পুলিশ প্রশাসন কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন। স্বাভাবিকভাবেই পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে বিরোধী দলগুলি চেপে ধরেছে কেন্দ্রকে। বিরোধীদের তরফে এমন অভিযোগ তোলা হয়েছে এই কাণ্ডে বিজেপি-আরএসএস মদতপুষ্ট দুষ্কৃতীদের হাত থাকার কারণেই পুলিশের এই নিষ্ক্রিয় ভূমিকা।

প্রশ্নের মুখে জেএনইউ-এর উপাচার্যের ভূমিকাও। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় বারংবার অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠলেও উপাচার্যকে কখনওই সক্রিয় হতে দেখা যায় না। এমন অভিযোগ খোদ ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য অধ্যাপক-অধ্যাপিকাদের একটা বড় অংশের। একই অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদেরও। এসএফআই নেতা সৃজন ভট্টাচার্যের অভিযোগ, জেএনইউ-এর উপাচার্য আরএসএসের প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করছেন। এর ফলে সেখানে নিরপেক্ষতা আশা করাটাই মুর্খামি।

আরও পড়ুন: ফের রক্তাক্ত জেএনইউ, উস্কে দিল রাজনৈতিক বিতর্ক

জেএনইউ কাণ্ডের প্রতিবাদে গোটা দেশের বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি পথে নেমেছে। এই ইস্যুতে সোমবার মহানগরী ছিল উত্তাল। এসএফআই থেকে ডিএসও, ছাত্র পরিষদ থেকে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ- পথে নেমে সরব ছিল সব পক্ষই। প্রতিবাদের ঝড় শুধু ছাত্র সংগঠনগুলি থেকেই নয়, দীনেশ ত্রিবেদীর নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদল পৌঁছে গিয়েছিল দিল্লির ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে। গঙ্গাসাগর সফরে গিয়ে এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সীতারাম ইয়েচুরি থেকে বিমান বসু কিংবা কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা সবাই মুখ খুলেছেন জেএনইউ কাণ্ডে। দেশের তাবড় বিজেপি বিরোধী নেতারা এই ইস্যুতে সোচ্চার।

সংসদে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাস হওয়ার পর থেকে গোটা দেশ তোলপাড়। এনআরসি এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে রাজ্যে রাজ্যে আগুন জ্বলেছে। পথে নেমে সোচ্চার হয়েছে বুদ্ধিজীবী থেকে সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে উত্তরপ্রদেশ সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন বহু আন্দোলনকারী। দেশব্যাপী আন্দোলনের ঝাঁঝে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বও বেসামাল। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশের মতে এই আন্দোলনের চাপে পড়ে নিজের বক্তব্য থেকে পিছু হঠতে হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে। প্রধানমন্ত্রীকে বলতে হয়েছে এনআরসি নিয়ে নাকি কোনও আলোচনায় হয়নি। বিরোধী আন্দোলনের চাপে যখন দোর্দণ্ডপ্রতাপ অমিত শাহ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢোক গিলছেন ঠিক সেই সময় জেএনইউ কান্ড। এর পিছনে অন্য কোনও রাজনৈতিক অভিসন্ধি নেই তো? বেশ কিছু মহল থেকে এমন প্রশ্ন উঠে এসেছে। এমন নয় তো এনআরসি ও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র আন্দোলনের অভিমুখ ঘোরাতেই এই নতুন ইস্যু! বিষয়টা কিন্তু একেবারেই উড়িয়ে দেওয়ার নয়। অন্তত এমন বক্তব্য উঠে এসেছে রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মধ্য থেকে। দেশজোড়া আন্দোলনের অভিমুখ ঘোরাতেই কি জেএনইউ-তে এই কান্ড ঘটানো হল?

ক্লিক করে পড়ুন ‘সাতসকাল’ ই-খবরের কাগজ

The post satsakal 08-05-2021 appeared first on satsakal.com.