রাজভবনে এক ঘণ্টার বৈঠক, স্বার্থ কার রাজ্যপাল না মুখ্যমন্ত্রীর?

রাজভবনে এক ঘণ্টার বৈঠক, স্বার্থ কার রাজ্যপাল না মুখ্যমন্ত্রীর? ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বার বার সংঘাতে জড়িয়েছেন রাজ্যপাল। বলতে গেলে বারবার সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছে তাঁদের তর্জার প্রসঙ্গ। কখনও যাদবপুর আবার কখনও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় একাধিকবার বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বারবার মুখ্যমন্ত্রীর দিকে আঙুল তুলেছেন তিনি। সিএএ নিয়ে মু্খ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ক্যা ক্যা ছি ছি’ মন্তব্য নিয়েও তাঁকে কটাক্ষ করেছেন রাজ্যপাল। সম্প্রতি কোচবিহারের পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে জগদীপ ধনকড় আমন্ত্রিত না হওয়ার ঘটনায় দু’পক্ষের সম্পর্কে আরও দূরত্ব বাড়ছে বলেই মনে করছিল বিভিন্ন মহল।

শুধু তাই নয় এর আগে মুখ্যমন্ত্রীকে বারবার আমন্ত্রণ জানালেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। এই নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কম কানাঘুষো হয়নি। তবে সোমবার রাজভবনে রাজ্যপালের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর একঘন্টার বৈঠকের পর রাজনৈতিক মহলে অন্য কথা শোনা যাচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে তবে কি এবার রাজ্যপালের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সংঘাত মিটল? যদিও বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে কিছু না জানালেও রাজ্যপাল ট্যুইট করে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে একঘন্টার বৈঠকে তিনি সন্তুষ্ট। আর এই নিয়েই জল্পনার শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে এতদিনের সংঘাতের পর কী এমন বিষয়ে নিয়ে কথা হল যেখানে মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকের পর মুখে কুলুপ আঁটলেন আর রাজ্যপাল জানালেন বৈঠক করে তিনি সন্তুষ্ট।

অন্যদিকে রাজনৈতির ওয়াকিবহল মহল মনে করছে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে রাজ্যপালের সংঘাত যদি সত্যি মেটে তাহলে তাঁর আঁচ পাওয়া গিয়েছিল রাজ্যপালের তরফ থেকেই। কারণ বাজেট অধিবেশনে রাজ্যপালের ভাষণ প্রসঙ্গে তীব্র টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। রাজ্যপাল রাজ্য সরকারের লিখিত ভাষণে নিজের টিপ্পনি করার কথা বলেছিলেন। এই ঘটনায় নবান্ন-রাজভবন চাপানউতোর আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দানা বেঁধেছিল। এই আশঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতেই সম্ভবত বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণের সময় টেলিভিশন ক্যামেরা প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। কিন্তু রাজ্যপাল অবশ্য তাঁর ভাষণে বেসুরো হননি। রাজ্য সরকারের লিখে দেওয়া ভাষণই হুবহু পড়েছিলেন। এরপর অধ্যক্ষর কক্ষে গিয়ে বসেছিলেন। সেখানে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুন: এবার কি তৃণমূলের ট্রামকার্ড ছত্রধর?

তবে এরপরেও অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তব্য টেলিভিশনে সম্প্রচার নিয়ে ক্ষোভ ব্যক্ত করেছিলেন রাজ্যপাল। এর প্রেক্ষিতেই আজ রাজ্যপালের সঙ্গে টানা একঘন্টা বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। পাশাপাশি প্রশ্ন উঠছে বারবার প্রত্যাখ্যান করার পরেও কেন সোমবার টানা একঘণ্টার বৈঠক করলেন? তবে কি নিজের স্বার্থের কথা ভেবেই রাজ্যপালের কাছে নত হলেন তিনি? কারণ সামনেই ভোট। রাজ্যপাল যেভাবে বারবার মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করছেন এবং রাজ্যের আইন ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তাতে ঘাসফুলের ভোটব্যাংকে প্রভাব পড়তে পারে। আর সেটা যে খুব একটা ভালো হবে না সেটা বেশ ভালোই বুঝতে পারছে শাসক শিবির। আর সেই কারণেই কি আজকের বৈঠক? অর্থমন্ত্রীর প্রসঙ্গ কি গৌণ? প্রশ্ন উঠছে অনেক কিছুই। রাজনৈতিক মহলে এমন প্রশ্নও উঠছে রাজ্যপাল যেভাবে যে কোনও বিষয় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করছেন, যেভাবে মন্তব্য করছেন সেটা কি তাঁর জন্য আদৌও মানানসয়ী? এই কারণে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে তিনি হাস্যকর পরিস্থিতির মুখেও পড়েছেন। প্রশ্ন উঠছে এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং সমস্ত সংঘাত মিটিয়ে নিতেই এই বৈঠক? উত্তরটা সময় দেবে।

তবে দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর রাজ্যপাল এবং মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক ওয়াকিবহল মহলের একাংশ। রাজভবনে এক ঘণ্টার বৈঠক, স্বার্থ কার রাজ্যপাল না মুখ্যমন্ত্রীর?

ক্লিক করে পড়ুন ‘সাতসকাল’ ই-খবরের কাগজ

The post satsakal 08-05-2021 appeared first on satsakal.com.