স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসাবে আসফাকউল্লা আজও স্মরণীয়

স্বাধীন ভারত দেখার স্বপ্নে ফাঁসি বরণ করেছিলেন আসফাকউল্লা খান

নরেন্দ্রনাথ কুলে: স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসাবে আসফাকউল্লা আজও স্মরণীয়। ১৯২৭ সালে ১৯ ডিসেম্বর কাকোরী মামলায় চারজনের ফাঁসির আদেশে দুজনের ফাঁসি হয়। রামপ্রসাদ বিস্মিল ও আসফাকউল্লা। রাজেন্দ্রলাল লাহিড়ীর ফাঁসি হয় ১৭ ডিসেম্বর আর রোশন সিংয়ের ফাঁসি হয় ২০ ডিসেম্বর। আসফাকউল্লা গোঁড়া মুসলিম পরিবারে মানুষ হলেও মামার বাড়ির পরিবেশ ছিল আধুনিক। ইংরেজদের সঙ্গে তাঁদের ওঠাবসা ছিল। এমনকী এই পরিবার সিপাহী বিদ্রোহে ইংরেজের সঙ্গে গোপনে পক্ষ নিয়েছিল। তাই তাঁর জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত দুঃখ আর লজ্জার সীমা ছিল না। প্রায়ই বলতেন,’ ধন-সম্পদ ঐশ্বর্যের জন্য এরা দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল। নিজের রক্ত দিয়েও সেই লজ্জা আমি ধুয়ে ফেলতে পারব না।’ দেশের প্রতি কত গভীর ভালোবাসা থাকলে তবে এ কথা বলা যায়।

ফাঁসির রায় ঘোষণার আগে সহকর্মী বক্সিজী কথায় কথায় জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘ যদি ফাঁসির হুকুম হয় কী করবে তুমি?’ হাসতে হাসতে জবাব দিয়েছিল, ‘আপনার মুখে ফুলচন্দন পড়ুক বিক্সজী। আল্লা যেন সেই দোয়া করেন আমাকে। দেশের কত নওজোয়ান শহিদের মৃত্যুবরণ করেছেন, কিন্তু সেই তালিকায় একজনও মুসলিম তরুণের নাম নেই। ভাবতে গেলে প্রাণটা আমার হু হু করে ওঠে। আমার জীবন দিয়ে যদি সেই অভাব পূরণ করতে পারি তবে আর কিছু চাই না।’  মুসলিম হিসেবে দেশের জন্য আত্মবলিদান দিতে শুধু তাঁর এই গর্ব শুধু শুধু আসেনি। দেশের মানুষের কষ্ট তাঁকে কাঁদিয়েছে।

আরও পড়ুন: সাড়ম্বরে পালিত হল মা সারদার ১৬৭তম জন্মতিথি

তাই একদিন বিদ্যার্থীজী নামক এক আশ্রয়দাতার কথার উত্তরে বলেন, ‘বহুদিন ভেবেছি, স্বাধীনতার পরে কি? উত্তর পাইনি আমি। উত্তর জানা ছিল না আমার। আমি দেখেছি কৃষকের দুঃখ, শ্রমিকের দীর্ঘশ্বাস। সব কিছুর স্রষ্টা ওরা। কিন্তু কোনও কিছুতেই ওদের অধিকার নেই। ওদের কথা ভেবে ভেবে আমি পাগল হয়ে যাই, কান্না পায় আমার…।’ এই কান্না নিয়ে দেশ স্বাধীন করার স্বপ্ন নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লেন স্বাধীনতা সংগ্রামে। তারপর সেই স্বাধীন দেশ কেমন হবে তাঁর  এক কথোপকথন উল্লেখ করলে বোঝা যায়।

লক্ষ্ণৌ জেলে নিয়ে যাওয়ার সময় ম্যাজিস্ট্রেট আইনুদ্দিন সাহেব রেলে একই কামরায় সওয়ারি হন। যিনি আসফাকের দাদাকে বলেছিলেন, আসফাক যেন সব দোষ স্বীকার করে।  কথায় কথায়  ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব বলেন, ‘ রামপ্রসাদ তো চায় হিন্দুরাজ প্রতিষ্ঠা করতে। মুসলমান হয়েও সে কাজে আপনাকে সাহায্য করবে?’  উত্তরে বলেছিল, হিন্দুরাজ প্রতিষ্ঠা করতে চায় রামপ্রসাদ, কে বলল আপনাকে? আমরা কেউই হিন্দু-মুসলিম কোনও রাজই চাই না। আমরা চাই স্বাধীন ভারত। যেখানে থাকবে না উঁচু-নীচু ভেদাভেদ আর ধর্মে ধর্মে হানাহানি; মানুষ যেখানে বাস করবে মানুষের মতো।’ স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসাবে আসফাকউল্লা আজও স্মরণীয়

ক্লিক করে পড়ুন ‘সাতসকাল’ ই-খবরের কাগজ

The post satsakal 08-05-2021 appeared first on satsakal.com.