দৃষ্টিহীন ভোটারকে চরম মানসিক হেনস্থা, অভিযুক্ত পোলিং অফিসার

শতাক্ষী কুন্ডু (কলকাতা): দৃষ্টিহীন ভোটারকে মানসিক হেনস্থার অভিযোগটি উঠেছে কসবায়। অভিযোগ খোদ পলিং অফিসারের বিরুদ্ধে। পেশায় শিক্ষক সায়ন্তণ বন্দ্যোপাধ্যায় একজন দৃষ্টিহীন ভোটার। এদিন তিনি  কসবা কেন্দ্রে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে পোলিং অফিসারের কাছ থেকে ব্রেইল ইলেকশন চাইলে সেই অফিসার তাঁর দৃষ্টিশক্তির পরীক্ষা নিতে চান বলে অভিযোগ সায়ন্তনের। তিনি বলেন, “নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়েছিলাম ইলেকশন বুথে। পোলিং অফিসার তখন আমাকে হঠাৎ প্রশ্ন করলেন, বলো তো কটা আঙুল!”

শেষ পর্যন্ত পোলিং অফিসার জানান নির্বাচন কেন্দ্রে নাকি কোনো ব্রেইল ব্যালটই নেই। বিষয়টি প্রিসাইডিং অফিসারকে জানানো হলে তিনিও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখননি বলেও জানান সায়ন্তন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি বাধ্য হয়ে বাবার সাহায্যে নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন।

তবে পুরো বিষয়টি কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনারকে লিখিতভাবে জানাবেন বলে জানান সায়ন্তন। তাঁর কথায়, “এর আগে দুটি বিধানসভা এবং দুটি লোকসভা ভোটের অভিজ্ঞতা আমার আছে। কিন্তু এরকম অব্যবস্থা কোনোদিন দেখিনি। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় থেকে প্রতিটি নির্বাচনে ব্রেইল ইলেকশন স্লিপ পেয়েছি। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশেই তো স্পষ্ট বলা হয়েছে প্রতিটা বুথে ব্রেইল ইলেকশন স্লিপ রাখতে হবে।” এখানে শুধুই যে অব্যবস্থার অভিযোগ, তাই নয়। বরং দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতাযুক্ত একজন মানুষের সঙ্গে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগও উঠছে পোলিং অফিসারের বিরুদ্ধে।

স্বাধীনতার ৭০ বছর পার করে দৃষ্টিহীন প্রতিবন্ধী ভোটাররা নিজেদের হাতে গণতান্ত্রিক ক্ষমতা প্রয়োগের অধিকার পেলেও তা যে শুধু খাতায় কলমে তাই আরও একবার প্রমাণ করল কসবার এই ঘটনা। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, খাস কলকাতা শহরের বুকেই যদি এমন ঘটনা ঘটে তাহলে প্রত্যন্ত গ্রামের দিকের চিত্রটা কেমন!

ক্লিক করে পড়ুন ‘সাতসকাল’ ই-খবরের কাগজ

The post satsakal 06-05-2021 appeared first on satsakal.com.