ধর্মঘটের দিন রেললাইনে বোমা, প্রশাসনিক নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে রেললাইনে কে বোমা রাখল?

বিকাশচন্দ্র ঘোষ:  ধর্মঘটের দিন রেললাইনে বোমা, প্রশাসনিক নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। বুধবার দেশজুড়ে সাধারণ ধর্মঘট পালিত হল। দশটি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন সমূহের আহ্বানে এই ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছিল। সারাদেশের মতো এ রাজ্যেও ধর্মঘট সর্বাত্মক সফল বলেই দিনের শেষে দাবি করেছেন ধর্মঘটী ইউনিয়নগুলির নেতারা। খোলা চোখে দেখলে এটা বলা যেতেই পারে ২০১১ সালের পর এরকম সফল বনধ বাংলায় দেখা যায়নি।

তবে এদিনের ধর্মঘট নিয়ে উঠেছে নানান অভিযোগ। ধর্মঘট সফল করতে অনেক জায়গায় জোর-জবরদস্তি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। বাসে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, পাথর ছোড়ার মতো ঘটনা ঘটেছে বিক্ষিপ্তভাবে। এমনকী রেললাইনে বোমা পাওয়ার ঘটনাও ঘটে। আর যা দেখে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হুঙ্কার দিয়ে বলেছেন, বনধের নামে গুন্ডামি করা হয়েছে।

ধর্মঘটীদের উদ্দেশ্যে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গঙ্গাসাগর সফরে তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ধর্মঘটের নামে গুন্ডামি বরদাস্ত করা হবে না। যারা সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করেছে তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পুলিশকে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ধর্মঘটীদের উদ্দেশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,  শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করুন। মানুষকে শান্তিতে থাকতে দিন। মমতা বলেন, ট্রেন লাইনের নিচে বোমা রাখা কোনও আন্দোলন নয়, এটা গুন্ডামি। এতে যদি কোনও ক্ষতি হতো তাহলে সাধারণ মানুষের ক্ষতি হতো। ধর্মঘটীদদের উদ্দেশ্যে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, প্রতিবছর চারটে করে বনধ ডাকতে হবে কেন?  আন্দোলন করতে পারে না? সিপিএম-এর উদ্দেশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনুরোধ করে বলেন, ঘোলা জলে মাছ ধরতে যাবেন না।

মুখ্যমন্ত্রীর এই ধরনের হুংকারের পাল্টা জবাব দিয়েছেন সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম থেকে শ্যামল চক্রবর্তী। তাঁরা বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উস্কানির কারণেই কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। এর জন্য দায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই।

রাজনৈতিক তরজা আবারও নতুন করে শুরু হয়েছে। উঠে এসেছে অনেক প্রশ্নও। আলোচনায় এসেছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও। যেসব অপ্রীতিকর ঘটনার খবর এদিনের ধর্মঘটকে ঘিরে তা প্রশাসন কেন রুখতে পারল না? রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের প্রশ্ন, রেললাইনে বোমা উদ্ধারের পরিপ্রেক্ষিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্মঘটীদের বিরুদ্ধে গুন্ডামির অভিযোগ তুলেছেন। কিন্তু সেই সময় পুলিশ প্রশাসনের নাগাল এড়িয়ে সেখানে বোমা রাখলো কারা? এই বোমা যে ধর্মঘটীরাই রেখেছে তারই বা প্রমাণ পেলেন কোথা থেকে মুখ্যমন্ত্রী? তা যখন তদন্ত সাপেক্ষ তাহলে আন্দোলনের নামে গুন্ডামি এমন অভিযোগ যে করা যায় না তেমন কথাও বলতে শুরু করেছেন অনেকেই।

গত লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের প্রেক্ষিতে এ রাজ্যে অনেকটাই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছিল বামেরা। বাংলায় রাজনৈতিক ঘূর্ণাবর্ত তৃণমূল এবং বিজেপিকে ঘিরেই চলতে শুরু করে। এ দিনের সফল ধর্মঘট বামেদের সেই হারানো জমি ফিরে পেতে অনেকটাই সাহায্য করবে বলে মত রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের একটা বড় অংশের। ধর্মঘটের দিন রেললাইনে বোমা, প্রশাসনিক নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

ক্লিক করে পড়ুন ‘সাতসকাল’ ই-খবরের কাগজ

The post satsakal 08-05-2021 appeared first on satsakal.com.