News from Archive: বিবাহবার্ষিকীতে চাঁদে জমি কিনলেন ঝাড়গ্রামের যুবক

অরূপ ঘোষ (ঝাড়গ্রাম): চাঁদ কি হাতের মোয়া যে চাইলেই পাওয়া যাবে! তবে, হ্যাঁ কোনো কোনো ক্ষেত্রে পাওয়া যায়। গোটা চাঁদকে হাতের নাগালে নিয়ে আসা না গেলেও, সেখানে জমি কেনা যায়। বিবাহ বার্ষিকীতে এক অভিনব উপহারে স্ত্রীকে চমকে দিলেন স্বামী। কিনে দিলেন চাঁদের জমি। অবাক হচ্ছেন? একেবারেই গাঁজাখুরি গল্প নয়, ঝাড়গ্রাম শহরের বাসিন্দা বছর পঁয়ত্রিশের সুমন্ত মুর্মু স্পেশাল দিনকে আরও স্পেশাল করতে তাঁর স্ত্রীকে উপহার দিলেন চাঁদের জমি।

২ জুলাই বিদ্যুৎ দপ্তরের ঝাড়গ্রাম সাব-স্টেশনের কর্মী সুমন্ত মূর্মুর প্রথম বিবাহ বার্ষিকী। সেই উপলক্ষে ‘ডক্টরস ডে’র দিন অর্থাৎ ১ জুলাই নিজের স্ত্রীকে এক ব্যতিক্রমী উপহার দিলেন তিনি। চাঁদ মামাকে পেয়ে উচ্ছ্বসিত এবং আনন্দিত মার্থা টুডু নিজের স্বামীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

বিদ্যুৎ দপ্তর-এর কর্মী সুমন্ত অবসরে সংগীত ও অভিনয় চর্চা করেন। নিজে গান লিখে সুরও করেন তিনি। সাঁওতালি সম্প্রদায়ের জীবনমুখী গানের অন্যতম প্রথম সারির শিল্পী তিনি। পাশাপাশি তিনি একজন পর্বতারোহীও। বঙ্গ থেকে তিনি প্রথম হিমাচলের মাউন্ট রাজ্জাকের শীর্ষে আরোহণ করেছিলেন। তার ছন্দময় জীবনের পতন ঘটে ২০১৭ সালের নভেম্বরে। সেই সময় তিনি বিদ্যুৎ বন্টন সংস্থার নন্দীগ্রামের আমতলিয়া সাবস্টেশন এ কর্মরত ছিলেন। হঠাৎই একদিন বাইকে কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার সময় লরির ধাক্কায় ডান পা কাটা যায়। যদিও কয়েকমাসের মধ্যেই কৃত্রিম পা নিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়ান তিনি। জীবনের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসেন। গত বছর (২০২০) দমদমের বাসিন্দা মার্থা টুডুকে বিবাহ করেন তিনি। বর্ষপূর্তিতে অর্ধাঙ্গিনীকে চাঁদের জমি দিয়ে রীতিমতো তাক লাগিয়ে দেন তিনি।

সুমন্ত জানিয়েছেন, মার্কিন এক সংস্থার কাছ থেকে অনলাইনে ৪৫ ডলারের বিনিময়ে তিনি কিনেছেন চাঁদের জমি। সমগ্র প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে অনলাইনে। ডাকযোগে ইতিমধ্যেই জমির দলিল হাতে পেয়েছেন। এবং বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) সেটি তুলে দিয়েছেন স্ত্রী মার্থার হাতে। এক সংবাদমাধ্যমকে সুমন্ত বলেন, ‘‘ছোটবেলা থেকেই চাঁদের প্রতি আগ্রহ ছিল। হঠাৎই ইন্টারনেট ঘাঁটতে গিয়ে চাঁদে জমি কেনা যায় বলে জানতে পারি। ক্রেতাদের তালিকায় রোনাল্ড রেগন, জর্জ বুশের মত আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্টরাও রয়েছেন দেখে যোগাযোগ করি। আমেরিকার ওই সংস্থাটি প্রকৃতই চাঁদের জমির মালিকানা নিয়ে এ পর্যন্ত ৬০ লক্ষ ক্রেতাকে ৬১ কোটি একর জমি বিক্রি করেছে। আন্তর্জাতিক মানের কয়েকটি হোটেল কর্তৃপক্ষও চাঁদে জমি কিনেছেন। তাই সব দিক খতিয়ে দেখে নিশ্চিত হয়ে জমি কিনেছি।’’  এমন চমকপ্রদ উপহার পেয়ে মার্থা বলেন, “সুমন্তর এমন উপহার কোটি টাকার চেয়েও দামি। আমাদের জীবদ্দশায় চাঁদে থাকার সুযোগ হবে না ঠিকই, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দলিলের ভিত্তিতে চাঁদে থাকার সুযোগ পাবে এই ভেবেই রোমাঞ্চিত হচ্ছি।”