দল-বদল ইস্যুতে বিজেপির কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত এবার প্রকাশ্যে

সোমনাথ আদক: আগুন থাকলে যেমন ধোঁয়া ওড়ে, তেমন উল্টোটাও হয়। ছাইয়ের ভেতর থেকে কুল কুল করে ধোঁয়া উড়লে বুঝতে অসুবিধা হয় না ভেতরে ভেতরে আগুনটার অস্তিত্ব। একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে যখন থেকে নেতা-নেত্রীরা ঘাসফুলের জার্সি ছেড়ে দলে দলে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিতে শুরু করেছিলেন তখন থেকেই পদ্মবনে আগুন লাগতে শুরু করেছিল। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সাথে রাজ্যেরও শীর্ষস্থানীয় নেতারা সেই আগুনটাকে তখনকার মতো চাপা দিতে পারলেও আদি-নব্য বিভাজনের ধোঁয়াটা আটকাতে পারেনি গেরুয়া শিবির। তারপর বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষনার তিন সপ্তাহের মধ্যেই, আগুনটা আবার প্রকাশ্য চলে আসে। ফল ঘোষনার পরেই মুখ খোলেন তথাগত রায়। বিজিপির ভরাডুবির জন্য তিনি সরাসরি দিলীপ ঘোষ, কৈলাস বিজয়বর্গীয়র মত নেতাকে অভিযোগের কাঠ গড়ায় দাঁড় করান। তবে এবার সোনালী গুহ তৃণমূলে ফিরতে চেয়ে ট্যুইটে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লেখার পরেই গেরুয়া শিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটি এবং রাজ্য কমিটির মধ্যেকার সংঘাত একেবারে সামনে চলে এলো।

বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ভরাডুবির পর থেকেই পুরনো দলে ফেরার তোড়জোড় শুরু করেছেন দলবদলুদের অনেকে। শনিবার সেই তালিকায় নাম লিখিয়েছেন সাতগাছিয়ার প্রাক্তন বিধায়ক সোনালি গুহ। ট্যুইট করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। তবে লাগাতার তৃণমূলে ফেরার প্রবণতায় মোটেও উদ্বিগ্ন নন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বললেন, ‘এদের আসা যাওয়াতে কিছু যাবে আসবে না। দলের যারা প্রকৃত সৈনিক তারা সব সময় ময়দানে থাকেন।’ এর পাশাপাশি এই সমস্ত ঘটনার জন্য দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকেই এবার কাঠগড়ায় তুলেছেন দলের রাজ্য নেতৃত্বের একাংশ।

উল্লখ্য, শারীরিক কারণ দেখিয়ে এবার সোনালী গুহকে টিকিট দেয়নি তৃণমূল। প্রার্থীতালিকা ঘোষণার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, ক্ষমতায় ফিরে বিধান পরিষদ গঠন করে এদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু তার পরেও টিকিট না পাওয়ায় দলবদল করেন দীপেন্দু বিশ্বাস, সোনালি গুহ, রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের মতো একাধিক বিদায়ী বিধায়ক। এর মধ্যে তৃণমূলের একাধিক নেতা-মন্ত্রীকে টিকিট দিয়েছিল বিজেপি। তবে বাকিদের কপালে সিকে ছেঁড়েনি।

বিজেপিতে যোগ দিয়ে সোনালী জানিয়েছিলেন, কিছু পেতে তিনি এখানে আসেননি। দল যা নির্দেশ দেবে সেই কাজই করবেন। তবে মাসখানেক ঘুরতে না ঘুরতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আঁচলের তলায়’ আশ্রয় চাইলেন তিনি।

সোনালীর দলত্যাগ নিয়ে দিলীপবাবু বলেন, ‘অনেকে অনেক রকম উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছিল। এখানে স্বার্থসিদ্ধি সম্ভব নয় বুঝে চলে যাচ্ছেন। লড়াই করতে ভয় পাচ্ছেন।’

যদিও বিজেপি নেতৃত্বের একাংশের দাবি, রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা না করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বানের জলের মতো ভেসে আসা তৃণমূল নেতাদের দলে নেওয়ায় এই ঘটনা ঘটছে। দলের রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা না করেই তৃণমূল থেকে বহু নেতাকে নেওয়া হয়েছে। ভোটের পরে তারাই দল ছাড়ছেন। ওদিকে ভোট মিটতে বাংলা ছেড়েছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারাও। নিজেদের রাজ্যে ফিরে গিয়েছেন তাঁরা। এমনকী তাঁদের অনেককে ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না বলেও দাবি রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে এখন কেন্দ্র-রাজ্য একে অপরের দিকে অঙুল তুলে নিজদের দোষ ঢাকতেই চাইছে

ক্লিক করে পড়ুন ‘সাতসকাল’ ই-খবরের কাগজ

The post satsakal 15-06-2021 appeared first on satsakal.com.