বড় ম্যাচের আগে বিধস্ত ইস্টবেঙ্গল

বড় ম্যাচের আগে নিভল মশাল। চার্চিলের পর এবার গোকুলাম ম্যাচেও হারল ইস্টবেঙ্গল. বুধবার কল্যাণীতে কেরলের দল গোকুলামের কাছে ৩-১ গোলে হেরে গেল লাল হলুদ। সেই সঙ্গে রবিবার ডাবির আগে ধাক্কা খেল আলেজান্দ্র গার্সিয়ার দল।

যদি গোকুলমের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ জিতত বা ড্র করতো ইস্টবেঙ্গল, তা হলে রবিবাসরীয় ডার্বিতে আত্মবিশ্বাস নিয়ে নামতে পারতেন কোলাডোরা। সেই জায়গায় এই হার ইস্টবেঙ্গলের ছেলেদের আত্মবিশ্বাস দুমড়ে মুচড়ে দেওয়ার মতো। এদিন প্রতিটি বিভাগে ব্যর্থ হল লাল-হলুদ।

ডুরান্ড কাপে এই গোকুলমের কাছে হেরে ফাইনালে উঠতে পারেনি লাল-হলুদ শিবির। এদিন বদলার ম্যাচে জ্বলে উঠার বদলে নিভে গেল ইস্টবেঙ্গলের মশাল।

গত বছর মোহনবাগানের হয়ে খেলেছিলেন উগান্ডার স্ট্রাইকার হেনরি কিসেক্কা। সবুজ-মেরুন জার্সিতে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি তিনি। বাগানের হয়ে ডার্বিতেও নিষ্প্রভ ছিলেন হেনরি। সেই হেনরি এদিন ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্সকে নিয়ে ছেলেখেলা করে এগিয়ে দেন গোকুলমকে। ম্যাচের ১৯ মিনিটে বাগানের প্রাক্তনি হেনরি গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। কিন্তু এর ঠিক ছ’ মিনিট পরেই সমতা ফেরায় ইস্টবেঙ্গল। লালরিনডিকা রালতের ফ্রি কিক থেকে আশির আখতারের হেড গোকুলমের পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বল থেকে কাশিম সমতা ফেরান। গোল শোধ করে কিছুটা ম্যাচের মধ্যে ফেরেন জুয়ান মেরা লালরিনডিকারা। পিছিয়ে থেকে যে ভাবে ফিরে এসেছিল মেনেন্ডেজের ছেলেরা, তাতে সমর্থকরা অন্যরকম কিছু ভেবেছিলেন।

কিন্তু বিরতির ঠিক আগে দলকে বিপন্মুক্ত করতে গিয়ে ক্রেসপিই বল জড়িয়ে দেন জালে। ফলে ২-১-এ এগিয়ে থেকে সাজঘরে ফেরেন মার্কাস–হেনরিরা। বিরতির পড়ে আক্রমণের চাপ আরও বাড়ায় কেরলের দলটি। ৬৫ মিনিটে গোকুলমের হয়ে ব্যবধান আরও বাড়ান মার্কাস জোসেফ। লাল-হলুদ গোলকিপার রালতের ভুলে তৃতীয় গোলটি করে গোকুলম। তার উপরে নড়বড়ে রক্ষণভাগ সমর্থকদের চিন্তা আরও বাড়িয়েছে। একাধিক বার নিজেদের পেনাল্টি বক্সের ভিতরে ক্রেসপি আতঙ্কের পরিস্থিতি তৈরি করেছেন। একমাত্র স্ট্রাইকার মার্কোস সারা ম্যাচে ক’টা বল ধরেছেন, তা হাতে গুনে বলে দেওয়া যায়। হাইমে কোলাডোর খেলায় ইদানিং মন নেই। মেজাজ হারাতেই বেশি দেখা যায় তাঁকে। গতবারের ধারও হারিয়ে গিয়েছে তাঁর খেলা থেকে। লিগ যত এগোচ্ছে ইস্টবেঙ্গল পিছিয়ে পড়ছে দৌড় থেকে। মোহনবাগান এখন শীর্ষে। ছয় ম্যাচে আট পয়েন্ট নিয়ে লাল-হলুদ পাঁচ নম্বরে।

এদিকে ম্যাচের পর অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল কল্যাণী। সমর্থকরা প্রবল বিক্ষভ দেখাতে থাকেন। হেনস্থার মুখে পড়তে হয় কোয়েসে সিইও সঞ্জিত সেনকে। সব মিলিয়ে বড় ম্যাচের আগে বারুদের স্তূপে ইস্টবেঙ্গল।

ক্লিক করে পড়ুন ‘সাতসকাল’ ই-খবরের কাগজ

The post satsakal 12-05-2021 appeared first on satsakal.com.