দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় বহিষ্কার তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি

মনিরুল হক (কোচবিহার): তলবি সভার আগেই নিজের পদ থেকে পদত্যাগ করলেন তৃণমূল পরিচালিত এক গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান। আজ কোচবিহার ১ নম্বর ব্লকের হাড়িভাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতে তলবি সভার ডাক দেয় কোচবিহার ১ নম্বর ব্লক প্রশাসন। দলীয় নিষেধাজ্ঞা স্বত্বেও তৃণমূল কংগ্রেসের হাড়িভাঙ্গা অঞ্চল কমিটির সভাপতি মোস্তফা আলির নেতৃত্বে অনাস্থা নিয়ে আসা ১১ জন গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যকে অঞ্চল অফিসে নিয়ে পৌছয়। অনাস্থা নিয়ে আসা গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যরা অঞ্চল অফিসে চলে আসায় তড়িঘড়ি নিজের পদ থেকে পদত্যাগ করেন ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান জাহাঙ্গীর আলম। এরপরেই ব্লক প্রশাসন ওই তলবি সভা বাতিল করে দেয়।

এদিকে দলীয় নিষেধাজ্ঞার পরেও অনাস্থা নিয়ে আশা পঞ্চায়েত সদস্যদের অঞ্চল অফিসে নিয়ে আসার অপরাধে অঞ্চল সভাপতি মোস্তফা আলিকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেয় তৃণমূল কংগ্রেসের কোচবিহার জেলা নেতৃত্ব। তাঁর জায়গায় অঞ্চল সভাপতি করা হল শমসের আলিকে। তবে অনাস্থা নিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যদের এখনও বহিষ্কার করা হয় নি। তাঁদের সাথে ফের আলোচনায় বসার চেষ্টা করবে কোচবিহার জেলা তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। তারপরেই চূড়ান্ত সিধান্ত নেওয়া হবে বলে এদিন তৃণমূল কংগ্রেসের কোচবিহার জেলা সভাপতি গিরীন্দ্রনাথ বর্মণ জানিয়েছেন।

গিরিনবাবু বলেন, “দলের সিধান্ত কোন গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা নিয়ে আশা যাবে না। হাড়িভাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতে অনাস্থা নিয়ে আসা পঞ্চায়েত সদস্যদের এবিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। প্রাক্তন অঞ্চল সভাপতিকে পঞ্চায়েত সদস্যদের নিয়ে জেলা সভাপতির সাথে আলোচনা করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু অঞ্চল সভাপতি তা না করে উল্টে গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যদের নিয়ে অঞ্চল অফিসে যান। সেই কারণে অঞ্চল সভাপতি তাঁর দলীয় পদ থেকে অপসারিত করা হয়েছে। সেখানে নতুন অঞ্চল সভাপতির নাম ঘোষণা করা হয়েছে। পঞ্চায়েত সদস্যরা যেহেতু তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে লড়াই করেছিলেন, সেই কারণে তাঁদের দল থেকে বহিষ্কার না করে আরও একবার সুযোগ দেওয়া হল। যাতে বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে নেওয়া যায়। ” অঞ্চল সভাপতির দায়িত্ব পাওয়া শমসের আলী বলেন, “দলীয় নির্দেশ মেনে দল পরিচালনার চেষ্টা করবো। অঞ্চলের পরবর্তী প্রধান গঠনের ক্ষেত্রেও দলীয় সিধান্ত মেনে কাজ করার চেষ্টা করবো। ”

একদিকে এদিন ওই তলবি সভাকে কেন্দ্র করে যাতে কোন অশান্তির সৃষ্টি না হয়, সেই কারণে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে পুলিশ প্রশাসন। এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে প্রচুর পুলিশি পাহারার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু প্রধান পদ ত্যাগের পর তলবি সভা বাতিল হয়ে যাওয়ায় অনাস্থা নিয়ে পঞ্চায়েত সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন। তলবি সভার জন্য আশা ব্লক প্রশাসনের কর্মীদের গাড়ির সামনে রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। ফলে কিছু ক্ষণের জন্য সেখানে ঝামেলার সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ তাদেরকে রাস্তা থকে তুলে দেয়। ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য শঙ্কর দেবনাথ বলেন, “প্রধান জাহাঙ্গীর আলম নিজের পদকে ব্যবহার করে দুর্নীতি করেছেন। এবিষয়ে দলীয় নেতৃত্ব একাধিকাবার জানানো হয়েছে। কিন্তু কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় আমরা দলীয় সিধান্ত অমান্য করে অনাস্থা নিয়ে এসেছি। আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিক। তাঁর কাছ থেকেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শিখেছি। বাধ্য হয়ে দলীয় সিধান্তের বিরুদ্ধে যাওয়ার জন্য আমরা ক্ষমা প্রার্থী। ”

সম্প্রীতি, তৃণমূল কংগ্রেস সাংগঠনিক ভাবে ঘোষণা করে দিয়েছে কোন ভাবেই তাঁদের নিয়ন্ত্রণে থাকা গ্রাম পঞ্চায়েত গুলোতে অনাস্থা আনতে দেবে না। এর আগে দিনহাটার ওকরাবাড়িতে গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যরা দলীয় নির্দেশ অমান্য করায় প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা নিয়ে আসায় তাঁদের দল থেকে বহিষ্কার করে তৃণমূল কংগ্রেস। এরপরে তৃণমূলের কোচবিহার জেলা কোর কমিটি একটি বৈঠকও করেছে। যে বৈঠকের মূল এজেন্ডা ছিল তাঁদের পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েত গুলোতে অনাস্থা ঠেকানো। কিন্তু তার পরেও যেন একের পর এক পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা নিয়ে আসার ঘটনায় তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব উদ্বেগে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।