ইয়াস পরবর্তীতে মাছে লেগেছে মড়ক, মাথায় হাত মৎস্যচাষীদের

শ‍্যাম বিশ্বাস (উওর ২৪ পরগনা‌): ইয়াসের পরে কুল ছাপানো জলে ভেসে গেছে বসিরহাট এলাকার মেছো চাষের ভেড়ি আর জলকর। মৎসজীবিদের মাথায় হাত। মাছেদের মড়কে একেবারেই ভালো নেই তাঁরা। জীবন জীবিকা শিকেয় ওঠার জোগাড়। উল্টে ঋণে মাথা থেকে পায়ের নখ বিকিয়ে যাওয়ার জোগাড়। উপার্জনহীন মৎস্যচাষীয় দেনার সমুদ্রে ডুবে আছেন।

গোটা বসিরহাট মহকুমা জুড়ে মৃত্যু হচ্ছে মাছের। বসিরহাট মহকুমা ছটি ব্লক জুড়ে বিভিন্ন এলাকায় মিঠে মাছ চাষের পুকুর ছিল যাকে স্থানীয় ভাষায় সাদা মাছের চাষ বলা হয়, সেই মাছ চাষে যুক্ত মানুষদের এখন জীবন বাঁচানো দায় হয়ে গেছে, তারা বাজার থেকে ধার দেনা করে লাভের আশায় অন্যের পুকুর লিজ নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেছিল। সব ঠিকঠাক চললেও শেষ রক্ষা হলো না মৎস্যচাষী কুলে।

চলতি মাসের গত ২৬ তারিখে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় তান্ডব না চালালেও নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় নদীর বাঁধ ছাপিয়ে আবার কোথাও বাঁধ ভেঙে নদীর নোনা জল ঢুকে পড়ে গ্রামের মধ্যে, সেই জল ঢুকে যাওয়ায় পরে একের পর এক সাদা মাছ চাষের পুকুরগুলো প্লাবিত হয়ে যায়। সেই সব পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ছিল তাতে নোনা জল ঢুকে যাওয়ায় একের পর এক মূল্যবান প্রজাতির মাছের মৃত্যু হচ্ছে।

তারপর এলাকায় ছড়াতে শুরু করেছে মাছ পচা দুর্গন্ধ, তা থেকে শুরু হয়েছে বিভিন্ন উপসর্গ, মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে জলবাহিত রোগ।

অন্যদিকে ফসলের জমিতে নোনা জল ঢুকে যাওয়ায় মার খাচ্ছে চাষী, তারা বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা ধার করে চাষ করেছিল ফসল তোলার আগে এই ধরনের ক্ষতির সামনে পড়তে হতে হলো। এখন চাষীদের দিন কাটছে দূর বিষয়ের মধ্যে, তারা ভেবে পাচ্ছেনা কি করে বাঁচবেন তাঁরা।

মাছচাষীরা জানিয়েছেন, জমি লিজ নিয়ে লাভের আশায় মিষ্টি জলের মাছ চাষ করেছিলাম, নদীর নোনা জল ঢুকে সমস্ত মাছ বেরিয়ে গেছে। আমার আর কিছুই নেই আমার প্রায় ক্ষতি হয়েছে চার লক্ষ টাকা, নিজের তো আয় হবেই না উল্টে এখন এত ঋণ পরিশোধ কোথা থেকে সাহায্য পাবেন কে সাহায্য করবে ভেবে কুল পাচ্ছেন না তাঁরা।

ক্লিক করে পড়ুন ‘সাতসকাল’ ই-খবরের কাগজ

The post satsakal 15-06-2021 appeared first on satsakal.com.