প্রেমিকা স্ত্রীকে ফিরে পেতে শ্বশুরবাড়ির সামনে ধর্ণা স্বপরিবারে প্রেমিক স্বামীর

এস কে বিশ্বাস (নদিয়া): প্রেম করে রেজিস্ট্রি বিয়ে, কয়েকদিন পর স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠানোর পর, আর স্বামীর বাড়িতে আসতে দেয়নি, নববধূর বাপের বাড়ির লোকজন, অগত্যা কোন উপায় খুঁজে না পেয়ে শ্বশুরবাড়ির সামনে গিয়ে বৌকে ফেরৎ পাওয়ার দাবি তে বিক্ষোভ অবস্থানে বসলো মাকে সঙ্গে নিয়ে প্রেমিক স্বামী। ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়া’র হরিণঘাটা’য়।

হরিণঘাটার বাসিন্দা বাবু মল্লিকের সঙ্গে স্থানীয় মোহনপুর হালদার পড়া সংলগ্ল সোনাখালি’র বাসিন্দা সংগীতা ঘোষের প্রেম পর্ব দীর্ঘদিনের এবং তারা দুজনেই দুজনার সন্মতিতে রেজিস্ট্রি বিয়ে ও করে। এরপর একসঙ্গে উভয়ে কয়েকদিন কাটানোর পর বাপের বাড়িতে যায় সংগীতা। এরপরই ঘটে বিপত্তি। সংগীতার বাড়ির লোকজন বৈবাহিক সম্পর্ক মেনে নিতে চান না, মেয়েকে চাপ সৃষ্টির পাশাপাশি বোঝানোর চেষ্টা করে প্রথমদিকে সফল না হলেও শেষ পর্যন্ত সংগীতার মতের পরিবর্তন ঘটে। বৈবাহিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্নের প্রস্তাবে রাজি হয়ে স্বামী বাবু মল্লিককে বিবাহ বিচ্ছেদের প্রস্তাব দেয় সংগীতা এবংএরপর থেকে সংগীতা প্রেমিক বাবু মল্লিককে চাপ দিতে থাকে ডিভোর্সের জন্য, কিন্তু বাবু সে প্রস্তাবে নারাজ এবং পরিস্থিতি বেগতিক দেখে শেষ পর্যন্ত নিজের বৌকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে নাছোড়বান্দা বাবু মল্লিক তার মাকে সঙ্গে নিয়ে সংগীতার বাপের বাড়ি মোহনপুর সোনাডাঙ্গায় এসে শ্বশুরবাড়ির সামনে মাকে নিয়ে ধর্ণায় বসে বাবু মল্লিক। তার দাবি রেজিস্ট্রি করা বিবাহিতা স্ত্রীকে সে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চায়।

বউকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার দাবি সম্বলিত একাধিক প্লাকার্ড সহ বিভিন্ন মুহূর্তের আবেগ ঘনিত অন্তরঙ্গ দৃশ্যের ছবি তুলে ধরে জনমত সহ সহানুভূতি আদায়ের করুন আর্তি নিয়ে শ্বশুরবাড়ির সামনে অবস্থানে বসেছে বাবু ও তার মা। এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে বাবু ও তার মায়ের একটাই দাবি, এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তাদের বৌমাকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যেতে যান। বাবু মল্লিকের মা অলোকা মল্লিক অত্যন্ত আক্ষেপের সুরে জানালেন, তার বৌমাকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যেতে না পারলে, রেজিস্ট্রেশনের বৈধ কাগজপত্র নিয়ে আইনের দ্বারস্ত হবেন।

বাবু মল্লিক, তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন সহ এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে একটাই আর্তি জানিয়েছেন, বৌকে ছাড়া সে বাড়িতে ফিরবে না।