ভোটের ফল ঘোষনার পর রবীন্দ্রনাথের বিচার আমরাই করবো, হুঙ্কার, সাংসদ সুনীল মণ্ডলের

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় (বর্ধমান): বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষনার পর কাটোয়া ছেড়ে বেরোতে দেওয়া হবে না রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়কে। ওর বিচার আমরাই করবো। পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে বিজেপি কর্মীদের এমনই নিদান দেওয়ার অভিযোগ উঠলো সাংসদ সুনীল মণ্ডলের বিরুদ্ধে। বিজেপির নির্বাচনী কর্মীসভায় উপস্থিত হয়ে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া সাংসদের এমন নিদান দেওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিকমহলে।

বিষয়টি জানার পরেই কাটোয়া থানা ও নির্বাচন কমিশনে সুনীল মণ্ডলের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়।

কাটোয়ার দাঁইহাটে বিজেপির কর্মীসভায় সুনীল মণ্ডল বলেন, বিনয় মিশ্রকে ধরার অপেক্ষায় আছি আমরা। বিনয় মিশ্র যেদিন ধরা পড়বে সেই দিন থেকেই তৃণমূলের লাল টুকটুকে জেলে গিয়ে পচবে। সমস্ত হিসাব দিতে হবে। এই বক্তব্যের পরেই সুনীল মণ্ডল সুর চড়ান কাটোয়ার বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। সুনীল মণ্ডল বলেন, ‘আগামী ২ মে ভোটের ফল ঘোষনা শুরু হওয়ার পর তৃণমূল হেরে যাবে বুঝতে পেরে রবি চট্টোপাধ্যায় এখান থেকে চলে যাবে। সেই জন্য গননা শুরু হওয়ার পরেই গোটা কাটোয়া ঘিরে ফেলতে হবে। যাতে করে রবি চট্টোপাধ্যায় কাটোয়া থেকে বের হতে না পারে। রবি চট্টোপাধ্যায় কাটোয়া থেকে যাতে বের হতে না পারে তার জন্য আমাদের বিজেপি কর্মীরা জীবন দিয়ে দেবে। ওর বিচার তো আমরাই করবো। খাস জমি বিক্রি, খুন খারাবি সমস্ত কিছুর জবাব আমরা চাইবো। কোথাকার জল কোথায় যায় দেখবো। ইন্দ্রজিৎ মারা গেছে, তুহিন সামন্ত মারা গেছে বিচার হয়নি। ইনসান মল্লিক, সুকুর আলি, বাবলু শেখ সহ আরও যে বিজেপি কর্মী মারা গেছে। তাঁদের প্রত্যেকের মৃত্যুর জন্য যারা দোষী তাদের ফাঁসিতে ঝোলাতে না পারা গেলেও সারা জীবন জেলেই রাখাবো। পচা রুটি আর পচা ভাত খাইয়ে রোগগ্রস্ত করে ওদের জেলেই বিসর্জন দেওয়াবো। যেমন লালুপ্রসাদ বুড়ো বয়সেও জেল খাটছে”।  সুনীল মণ্ডলের এমন বক্তব্যের ভিডিও রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যেতেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে যায়।

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়ে বর্ধমান পূর্ব আসনে সুনীল মণ্ডল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাঁকে কাটোয়া থেকে জেতানোর জন্য তৃণমূল বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ও লড়াইয়ের ময়দানে নেমেছিলেন। তার পরেও সুনীল মণ্ডলের তাঁর প্রতি এই বিষোদগার দেখে কার্যতই হতাশ এবং ক্ষুব্ধ রবিবাবু। এদিন তিনি বলেন, ‘দাঁইহাটে বিজেপির কর্মীসভায় সুনীল মণ্ডল বলেছে ২ মে ভোটের ফল ঘোষনার তাঁকে ঘিরে রেখে বিচার করবে, প্রাণে মেরে দেবে এইসব কথা বলেছে। অমর রামকে দায়িত্ব দিয়েছে যাতে আমায় ঘিরে রাখা হয়। পালাতে না পারি। তারপরে আমায় মারা হবে। এর আগে নন্দীগ্রামে গিয়েও সুনিল মণ্ডল এইরকম হুমকি আমার উদ্দেশ্যে দিয়েছে। রবিবাবু বলেন, বিষয়টি জানার পর তিনি এদিন কাটোয়া থানা ও নির্বাচন কমশনে অভিযোগ দায়ের করেছেন“। যদিও সাংসদ সুনীল মণ্ডল এদিও তাঁর বক্তব্যে অনড় থাকেন। সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই কৈফিয়ত চাইবো কেন খুন করা হয়েছে। ও তো পালাতে পারে। যাতে পালাতে না পারে তারজন্য বিচারে কৈফিয়তের দাবি দিতে হবে। ওকে (রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়) আমাদের কাছে কৈফিয়ত দিতেই হবে বলে সুনীল মণ্ডল এদিন স্পষ্ট জানিয়ে দেন।‘

ক্লিক করে পড়ুন ‘সাতসকাল’ ই-খবরের কাগজ

The post satsakal 08-05-2021 appeared first on satsakal.com.