ভোট বয়কটে অনড় জল-সংকটে জেরবার সাহেবগঞ্জের আদিবাসী মহিলারা

আমিরুল ইসলাম (ভাতার): বাড়ি বাড়ি সজল ধারা প্রকল্পের সংযোগ দেওয়া হলেও মেলেনা জল। এমনকি গ্রামে পঞ্চায়েতের বসানো কল থাকলেও তার থেকে জল ওঠে না। এমন পরিস্থিতির কারণে সারা বছরই জল সংকটের মধ্যে দিন কাটাতে হয় পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের সাহেবগঞ্জ হলদি গোরে আদিবাসী পাড়ার বাসিন্দাদের। এখন গ্রীষ্মে আদিবাসী পাড়ায় জল সংকট আরও তীব্র আকার নিয়েছে নেতা, নেত্রী, জনপ্রতিনিধি সবাইকে জল সংকটের কথা জানিয়েছিলেন এলাকার বাসিন্দারা। কিন্তু সুরাহার কোন ব্যবস্থা আজ অবধি হয়নি। তারই পরিপ্রেক্ষিতে সাহেবগঞ্জ আদিবাসী পাড়ার মহিলারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জল সংকট সমাধানের ব্যবস্থা না হলে তারা কেউ ভোট দিতে যাবেন না। ৭০ ঘর আদিবাসী পরিবারের প্রায় ২০০ মহিলা ভোটার এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় কার্যতই বিড়ম্বনায় পড়ে গিয়েছেন শাসক-বিরোধী সব রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা।

ভাতার বিধানসভার অন্তর্গত সাহেবগঞ্জ ১ পঞ্চায়েত এলাকার অধীনে রয়েছে সাহেবগঞ্জ হলদি গোরে আদিবাসী পাড়া। এই পাড়ায় বসবাস করেন প্রায় ৭০ ঘর আদিবাসী পরিবার। তাঁদের কেউ ক্ষেত মজুরী করে আবার কেউ জনমজুরী করে জীবিকা নির্বাহ করেন। জল সংকটের কারণে জেরবার অবস্থা গোটা পাড়ার বাসিন্দাদের। এখন গরমে জলসংকট আরও তীব্র আকার নিয়েছে। জল পেতে এখন গ্রামবাসীদের ভরসা ডিভিসি ক্যানেলের আন্ডারপাশের নিচ দিয়ে যাওয়া সজলধারার পাইপ লাইন। সকাল থেকে সেখানেই হাঁড়ি, বালতি, কলসি নিয়ে ভেটের লাইনের মতো সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন আদিবাসী পাড়ার সব বয়সী মহিলারা। একে একে তাঁরা ক্যানেলের আন্ডারপাশের নিচের পাইপ লাইন দিসে আসা জল সংগ্রহ করেন। বৃহস্পতিবার ওই ক্যানেলের আন্ডারপাশের কাছে পৌছে দেখা গেল জল নেওয়ার জন্য বহু মহিলা একইরকমভাবে সেখানে লাইন দিয়েছেন।

আদিবাসী মহিলাদের আনা অভিযোগ প্রসঙ্গে সাহেবগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান চায়না অধিকারী জানান, “ওই গ্রামে প্রত্যেকটি বাড়ি বাড়ি সজলধারা কলের ব্যবস্থা করা আছে। তা সত্ত্বেও কেন ওই আদিবাসী পাড়ায় পাইপ লাইনে জল পৌছয় না সে বিষয়ে তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন। দ্রুত যাতে সজলধারার জল পরিসেবা ওই আদিবাসী পাড়ায় পৌছায় তার ব্যবস্থা করবেন বলে প্রধান আশ্বস্ত করেছেন।‘

ক্লিক করে পড়ুন ‘সাতসকাল’ ই-খবরের কাগজ

The post satsakal 12-05-2021 appeared first on satsakal.com.