আদিবাসী মহিলাকে গণধর্ষণ করে খুন, উত্তাল তেহট্টের বেতাই

এস সি বিশ্বাস : গভীর রাতে ফোন করে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে এক আদিবাসী মহিলাকে গন ধর্ষণের পর খুন করে দেহ গাছে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগে উত্তাল নদিয়ার তেহট্ট মহকুমার বেতাই নফরচন্দ্রপুর।

বেতাই নফরচন্দ্রপুরের ঐ আদিবাসী মহিলার স্বামী কর্মসুত্রে বিদেশে অর্থাৎ মালয়েশিয়া থাকে, ছেলেও বাইরে কাজ করে, ফলে ঐ মহিলা একাই বাড়িতে থাকতেন। কয়েকদিন হল ঐ মহিলার ছেলে বাড়িতে এসেছে। তার ছেলের অভিযোগ অনুয়ায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে তার মায়ের মোবাইলে একটা ফোন আসে, কিছুক্ষণ কথপোকথনের পর তার মা বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যান, এবং যাওয়ার সময় বলেন, কিছুক্ষণের মধ্যেই সে বাড়িতে ফিরে আসবে। এর পর রাত অনেক হয়ে যাওয়া সত্বেও তার মা বাড়িতে না ফেরায়, প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত এলাকার বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও ঐ মহিলার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার সকালের দিকে প্রতিবেশীদের অনেকেই মাঠে ছাগল চরাতে গিয়ে দেখতে পায়, জঙ্গলের এক গাছে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঐ মহিলার দেহ ঝুলছে। গাছে ঝুলন্ত দেহ দেখে হকচকিয়ে যায়, ছাগল চড়াতে যাওয়া প্রত্যক্ষদশীরা। এরপর তড়িঘড়ি পাড়ায় এসে খবর দিতেই ঐ মহিলার ছেলে সহ প্রতিবেশীরা সকলে গিয়ে দেখতে পায় গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় গাছের ডালে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে ঐ মহিলাকে। পাড়া প্রতিবেশীদের পক্ষ থেকে দ্রুত খবর দেওয়া হয় স্থানীয় থানায়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে এবং দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য তেহট্ট মহকুমা হাসপাতালে পাঠায়। এই ঘটনার পর এলাকা থমথমে। এলাকাবাসীদের আশঙ্কা ঐ মহিলার উপর পাশবিক অত্যাচার করে তাকে গন ধর্ষণের পর অভিযুক্তরা খুন করে গাছে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়েছে।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বেতাই ১ নং গ্ৰাম পঞ্চায়েত প্রধান বুড়িবালা সর্দার বলেন, ঐ মহিলার স্বামী এবং ছেলে কর্মসুত্রে বাইরে থাকার সুযোগেই হয়তো কোন বাজে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়তে পারে ঐ মহিলা এবং তারই ফলশ্রুতিতে এই ঘটনা হতে পারে এবং প্রমান লোপাটের জন্য হয়তো খুন করে পালিয়েছে অভিযুক্তরা। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলেই প্রকৃত তথ্য উদঘাটন সম্ভব বলে তিনি জানান।