গ্রেফতার হতে পারেন রোদ্দুর রায়

যুব সমাজে অপসংস্কৃতি ছড়ানোর দায়ে অভিযুক্ত ইউটিউবার রোদ্দুর রায়কে গ্রেফতার করতে পারে কলকাতা পুলিশের সাইবার শাখা। রবীন্দ্রনাথের গানে অশ্লীল শব্দ বসিয়ে ভিডিও তৈরী করে ইউটিউবে প্রচার করা এবং বসন্ত উতসব উপলক্ষ্যে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিটিরোড ক্যাম্পাসে যে বিতর্কিত ঘটনাটি ঘটেছে তার জন্য অনির্বান রায়ের ওরফে রোদ্দুর রায়ের বিরুদ্ধে কলকাতা পুলিসের সাইবার সেলে অভিযোগে দায়ের করেছেন মানবাধিকার কর্মী ও চিকিতসক ড. দীপায়ন সাহা।

বেশ কিছু দিন ধরে রোদ্দুর রায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানে অশ্লীল শব্দ বসিয়ে এবং অশালীন অঙ্গভঙ্গি করে ভিডিও তৈরী করেন এবং তা ইউটিউবে আপলোড করেন। তারপর সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যেমে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেন তরুণ-তরুণীদের মধ্যে। একধিকবার তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। তখন অনেকেই নিছক মজার ছলে ঘটনাটিকে নিয়েছিলেন। কিন্তু ৫ মার্চ বৃহস্পতিবার বসন্ত উতসবকে কেন্দ্র করে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিটি রোড ক্যাম্পাসে যে বিতর্কিত ঘটনাটি ঘটে তাতে ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে নেটিজেন থেকে রাজ্যবাসীর।

উল্লেখ্য ৫ মার্চ বৃহস্পতিবার বসন্ত উতসবকে কেন্দ্র করে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিটি রোড ক্যাম্পাসে দোল উতসবের কিছু ছবি ঘিরে বিতর্ক তৈরী হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরালও হয় সেই ছবিগুলি। তাতে দেখা যায় কয়েকজন শাড়ি পরা তরুনীর খোলা পিঠে আবীর দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান বিকৃত করে অশ্লীল শব্দ লেখা রয়েছে। শুধু কয়েকজন তরুণীর পিঠেই নয় কয়েকজন তরুণের বুকেও লেখা ছিল রবীন্দ্রনাথের গানকে বিকৃত করে অশ্লীল শব্দ। তারপরেই সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে। শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী থেকে ছাত্র-ছাত্রীরাও এই ঘটনার নিন্দা করেন। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সিঁথি থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। যদিও পরবর্তী সময়ে অভিযুক্তরা রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষের কাছে ক্ষমা চান। এই ঘটনার ঠিক পরপরই আর একটি ঘটনা সামনে আসে। মালদার একটি স্কুলের কয়েকজন ছাত্রীকে স্কুল ড্রেসেই রবীন্দ্রনাথের গানের বিকৃত প্যারডি গাইতে দেখা যায়। সেই ভিডিওটিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।

বসন্ত উতসবকে কেন্দ্র করে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ও মালদার স্কুলের ওই ঘটনা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ এবং তার বাইরেও নিন্দার ঝড় বইছে। চিত্র পরিচালক গৌতম ঘোষ মন্তব্য করেন, ‘রবীন্দ্রভারতীর ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এই অপসংস্কৃতিই এখন সব জায়গায় দেখতে পাই।’ তীব্র নিন্দা করেন সঙ্গীতশিল্পী শ্রাবণী সেনও।শিক্ষাবিদ নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ি বলেন, ‘অপসংস্কৃতির মধ্যেও সংস্কৃতি বলে শব্দ আসে। যারা এমন করেছেন, তাদের সামান্য সংস্কৃতি বোধ আছে বলেই মনে করি না। অত্যন্ত লজ্জাজনক।’ একইভাবে এই ঘটনার নিন্দা করেছেন শিক্ষমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও। তিনি বলেন, ‘লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যাচ্ছে।’ তরুণ-তরুণীদের মধ্যে অপসংস্কৃতি ছড়ানোর অভিযোগে ইতিমধ্যে অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় রোদ্দুর রায়কে গ্রেফতার ও তার ইউটিউব চ্যানেলটিকে ব্যান করার দাবি জানিয়েছেন।

এর পাশাপাশি, মানবাধিকার কর্মী ও চিকিতসক ড. দ্বীপায়ণ সাহা কলকাতা পুলিশের সাইবার সেলে রোদ্দুর রায়ের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। যুব সমাজে অপসংস্কৃতি ছড়ানো এবং রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনার জন্য তিনি পরক্ষভাবে রোদ্দুর রায়কেই দায়ি করেন। এন.ই মি়ডিয়া উইন্ডোর পক্ষ থেকে দীপায়ন সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে উনি বলেন, বাচ্চা-বাচ্চা ছেলেমেয়েরা কিছু বোঝে না। ওদের মধ্যে খারাপ জিনিসের প্রভাব বেশি পড়ে। আসল দোষি যদি কেউ তিনি রোদ্দুর রায়। উনি প্রতিবাদ করার জন্য নয় রবীন্দ্রনাথের গানকে বিক্রিত করে, নামী লোকজনদের গালাগালি দিয়ে যে ভিডিও করেন তা আসলেই সস্তার প্রচার এবং ইউটিউবের সাবস্ক্রাইবার বাড়িয়ে টাকা কামানোর জন্য।

কলকাতা পুলিসের সাইবার সেলে ড. দ্বীপায়ণ সাহা যে অভিযোগ করেন তাতে তিনি লেখেন, “I am a doctor & human rights activist, want to complaint againest the person named Roddur Roy, who is indirectly responsible for the Rabindra Bharati Basanta utsab scandal, he is deliberately using slang languages and abusive words in the several videos & respectable personalities like Rabindranath Tagore, even he is promoting marijuana and drug addiction which is banned in India, Some youths are following him & doing some misdeeds, If they are punishable, why the main culprit will be free? I am trying to provide you his video links, please take any legal action againest the offensive person.

কলকাতা পুলিশের সাইবার সেলে করা দীপায়ন সাহার অভিযোগের স্ক্রিনশট ও সাইবার সেল থেকে পাঠানো ইমেলের স্ক্রিন শট

দীপায়ন সাহা-র অভিযোগ পাওয়ার পরেই কলকাতা পুলিসের সাইবার সেল জানিয়েছে, আমরা অভিযোগ পেয়েছি আইন অনুযায়ী উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ব্যাপারে এন.ই মিডিয়া উন্ডোর পক্ষ থেকে ইউটিউবার রোদ্দুর রায়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর ফোন পরিষেবা সীমার বাইরে ছিল। এখন কলকাতা পুলিসের সাইবার শাখা রোদ্দুর রায়ের বিরুদ্ধে কী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করে সেদিকেই তাকিয়ে আছে সবাই।

 

ক্লিক করে পড়ুন ‘সাতসকাল’ ই-খবরের কাগজ

The post satsakal 08-05-2021 appeared first on satsakal.com.