কোনও রকম মদত ছাড়া পুলিশের সামনে বন্দুক নিয়ে আক্রমণ চালানো কি সম্ভব?

বিকাশ চন্দ্র ঘোষ: কোনও রকম মদত ছাড়া পুলিশের সামনে বন্দুক নিয়ে আক্রমণ চালানো কি সম্ভব? নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে গোটা দেশজুড়ে এখন আন্দোলনের ঢেউ বইছে। নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রের বিজেপি সরকার হয়তো কল্পনাও করতে পারিনি একটা আইন পাস করিয়ে আনার পর এমন তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়তে হবে তাদের। স্বাধীন ভারতে প্রচুর আইন পাস হয়েছে সংসদে। অনেক ক্ষেত্রেই বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়েছে সেইসব সরকারকে। তবে নাগরিক সংশোধনী আইন পাস হওয়ার পর যেভাবে গোটা দেশে বিদ্রোহ দাবানলের আকার নিয়েছে তা এর আগে কোনওদিন ঘটেনি। কোনও একটা কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে গোয়েন্দা রিপোর্ট গ্রহণ করে থাকে সরকার। আর সেই গোয়েন্দা রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর পদক্ষেপ নিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে গোয়েন্দারা সরকারকে সঠিক তথ্য দিতে ব্যর্থ হয়েছে বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।

এটা গেল সরকারের ব্যর্থতার একটা দিক। দেশবাসী তাই এমন বিরল ঘটনাও এবার দেখছে। কোনও একটা আইন পাস করানোর পর শাসক দলকেই সেই আইনের বিষয়ে জনসমর্থন আদায়ে পথে নামতে হচ্ছে। নয়া আইনের পক্ষে সমর্থন আদায়ে শাসকদল শুধুই কি দলীয় কর্মী-সমর্থকদের পথে নামিয়েছে? এমন প্রশ্নও দেশের শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের একাংশের পক্ষ থেকে উঠতে শুরু করেছে।

আরও পড়ুন: দেবেন্দ্র সিং যা করেছেন সেটা কি প্রশাসনিক ক্ষমতার অবক্ষয়?

হঠাৎ কেন এমন প্রশ্ন? বেশ কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা এই প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। একদিকে বিজেপির বেশ কিছু নেতা তাঁদের দম্ভ থেকে যেমন হুংকার দেওয়া বন্ধ করছেন না অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের রুখতে দুষ্কৃতীরাও নেমে পড়েছে মাথায় ফেট্টি বেঁধে। হাতে বন্দুকের ট্রিগার। এমনকী সেই বন্দুকের গুলি ঝাঁঝরা করে দিয়েছে তাজা প্রাণ। রক্তে ভেসেছে মাটি।

ভয় পেয়েছে ওঁরা… আর তাই ভয়ের বাতাবরণ তৈরির চেষ্টা। আন্দোলনকে প্রতিহত করতে বন্দুকের নলকে ব্যবহার।

তবে ইতিহাস বড় ক্রুর। বন্দুকের নল কোনও দিন শেষ কথা বলে না। শেষ কথা জনগণ, মানুষের মুখের ভাষা, মুখের আওয়াজ। এক বন্দুকের গুলির আওয়াজের থেকেও কয়েকশো গুণ বেশি জনগণের আওয়াজ!

জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জলঙ্গি। দূরত্ব অনেক। কিন্তু ইতিহাসের পদধ্বনি এক সুতোই মিশেছে। উভয় ক্ষেত্রেই আন্দোলনকে পদদলিত করার ব্যর্থ প্রয়াস। তাজা রক্তের বিনিময়ে আন্দোলনের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে দিকবিদিক। মানুষ আরও সঙ্ঘবদ্ধ হয়েছে, আন্দোলনকে আরও তীব্রতর করতে আরও সংকল্পবদ্ধ হয়েছে।

কিন্তু পিছনে ওই শক্তি কারা? কাদের ইন্ধন রয়েছে ওই রক্তলোলুপ মানুষগুলোর মধ্যে? পুলিশের সামনেই এমনিভাবে আন্দোলন প্রতিহত করার জন্য হাতে বন্দুক নিয়ে আক্রমণ? অভিযুক্তদের আড়াল করতে কেন এত চেষ্টা? আবার কেউ এই রক্ত লোলুপদের মধ্যে খুঁজে পাচ্ছে নাথুরাম গডসকে! সন্ত্রাসবাদী কারা? হাতে বন্দুক নিয়ে যাঁরা সন্ত্রাসের সামনের সারিতে থাকে শুধু তাঁরাই? পিছন থেকে যাঁরা মদত দিচ্ছে তাঁরা কারা? সন্ত্রাসবাদী!

প্রশ্ন অনেক। জনতা আজ প্রশ্ন তুলছে। সেই প্রশ্নের জবাব দেওয়ার ভাষা নেই বলেই কি এমন সন্ত্রাস। সন্ত্রাস কি থামাতে পারে বিপ্লব? সময় বড় কঠিন। সেই সময় আসবে জবাব দেওয়ার। বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ভারত। সাধারণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে মানুষ খুঁজে নেন তাঁদের পছন্দের সরকারের প্রতিনিধিদের। জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জলঙ্গি… কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারীকা… আগামীর পথ চেয়ে জনগণ…  কোনও রকম মদত ছাড়া পুলিশের সামনে বন্দুক নিয়ে আক্রমণ চালানো কি সম্ভব?

ক্লিক করে পড়ুন ‘সাতসকাল’ ই-খবরের কাগজ

The post satsakal 08-05-2021 appeared first on satsakal.com.