প্রয়াত সাহিত্যিক নবনীতা দেবসেন

না ফেরার দেশে চলে গেলেন নবনীতা দেবসেন

প্রয়াত সাহিত্যিক নবনীতা দেবসেন। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। ক্যানসারের মতো মারণরোগে আক্রান্ত ছিলেন, তবুও থেমে থাকেননি। তবে সবকিছুরই শেষ থাকে। অবশেষে ক্যানসারের কাছে হার মানলেন।  মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। বাবা নরেন দেব ও মা রাধারাণীদেবীর একমাত্র সন্তান নবনীতা দেবসেন সাহিত্যালোকের মধ্যেই কাটিয়েছেন শৈশব মেয়েবেলা থেকে আজীবন। so মা-বাবার বাড়ি ‘ভালোবাসা’-তেই থেকেছেন আজীবন। দক্ষিণ কলকাতার হিন্দুস্থান পার্কের সেই বাড়িতেই বৃহস্পতিবার রাতে না ফেরার দেশে চলে গেলেন সাহিত্যিক নবনীতা দেবসেন। কবিতা দিয়ে হাতেখড়ি, একে একে উপন্যাস, রম্যরচনা, পাঠক সমাজ এক অন্য জগতের সন্ধান দিয়েছেন তিনি। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। নিজেও ২০০২ সাল পর্যন্ত সেখানে অধ্যাপনাও করেছেন। ভারতের ধর্মীয় বহুত্ববাদের তত্ত্ব তাঁর বর্ণনায় অসাধারণ।

আরও পড়ন: শক্তি বাড়িয়ে উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে বুলবুল

so ১৯৫৯ সালে প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রথম প্রত্যয়‘ দিয়ে। প্রথম উপন্যাস ১৯৭৬-এ প্রকাশিত ‘আমি অনুপম’। গত পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন। তবে শুধু যাদবপুর নয়, বিভিন্ন সময় ইউরোপ ও আমেরিকার বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং প্রোফেসর হিসেবে যুক্ত ছিলেন তিনি। পড়ানোর ব্যস্ততার মধ্যেও কিন্তু থেমে থাকেনি তাঁর কলম। একের পর এক লিখে গিয়েছেন কবিতা, প্রবন্ধ, ভ্রমণকাহিনী, উপন্যাস। রম্যরচনাতেও নজরকাড়া মুন্সিয়ানা। প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৩৮। আত্মজীবনী মূলক রম্যরচনা ‘নটী নবনীতা‘ গ্রন্থের জন্যে ১৯৯৯ সালে সাহিত্য অ্যাকাডেমী পুরস্কার পান নবনীতা দেবসেন। ১৯৬০ সালে অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন নবনীতা। মাত্র ১৩ বছরের দাম্পত্য। ১৯৭৩-এ তাঁদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। অমর্ত্য সেন বিয়ে করেন এক বিদেশিনীকে। তবে নবনীতা আর সেই পথে আগ্রহ দেখাননি। এই বিচ্ছেদ তাঁকে বেদনানীর্ণ করলেও মুখ ফুটে কখনওই তা নিয়ে আলোচনা করেননি। বরং লেখনিতে পরিস্ফুটিত হয়েছে সেই অব্যক্ত যন্ত্রণা। সেই যন্ত্রণারই অবসান ঘটল ৭ নভেম্বর। সাহিত্যের জগতে আরও এক নক্ষত্রের পতন ঘটল। যা সাহিত্য জগতের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। প্রয়াত সাহিত্যিক নবনীতা দেবসেন

ক্লিক করে পড়ুন ‘সাতসকাল’ ই-খবরের কাগজ

The post satsakal 06-05-2021 appeared first on satsakal.com.