লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা পেয়ে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদানের হিড়িক

তনুজ জৈন : টাকা ঢুকেছে লক্ষ্মীর ভান্ডারের। পুজোর প্রাক্কালে তাই খুশি হয়ে শাসক দলে যোগ দেওয়ার হিরিক। বিজেপি ছেড়ে তারা যোগ দিচ্ছে, দাবি করছেন তৃণমূল বিধায়ক। যদিও এই নিয়ে পাল্টা কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। পূজোর মুখেই ‘লক্ষ্ণীর ভান্ডার’ প্রকল্পের টাকা ঢুকছে একাউন্টে। আর তাতেই আপ্লুত হয়ে বিভিন্ন দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগদানের হিড়িক পড়েছে মালদার চাঁচলে। গত দুদিনে চাঁচল গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় এক হাজারোর বেশি মানুষ বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছে। এদের মধ‍্যে অধিকাংশই লক্ষ্ণীর ভান্ডার প্রকল্পের সুবিধা প্রাপ্ত মহিলার রয়েছে বলে দাবি করেছেন চাঁচলের তৃণমূলের  বিধায়ক নিহার রঞ্জন ঘোষ।

আনুষ্ঠানিকভাবে ওই মহিলাদের হাতে দলীয় পতাকা  নিজেই তুলে দেন তৃণমূলের বিধায়ক নীহার। তৃণমূল সূত্রে খবর, চাঁচল গ্রাম পঞ্চায়েতের পাহারপুর ও সুতাহাটিতে তৃণমূলের যোগদান শিবির অনুষ্ঠিত হয়। সেই অনুষ্ঠানে প্রায় এক হাজার বিজেপি কর্মী তৃণমূলে যোগ দিয়েছে বলে বিধায়ক নীহার রঞ্জন ঘোষ দাবি করেছেন। রাজ‍্য সরকারের নয়া প্রকল্প লক্ষ্ণীর ভান্ডার প্রকল্পের টাকা ঢুকতে শুরু করেছে। তাই মহিলাদেরই  বেশি যোগদানের হিড়িক  পড়েছে।

লক্ষ্ণীর ভান্ডার প্রকল্পের উপভোক্তা সুচিত্রা দাস আপ্লুত হয়ে জানান, মেয়ে কন‍্যাশ্রী পাচ্ছে। আর শারদ উৎসবে আমারও একাউন্টে ‘লক্ষ্ণীর ভান্ডারের’ দু মাসের কিস্তি দুহাজার ঢুকেছে। এছাড়াও তৃণমূল সরকার আমাদের  মহিলাদের স্বনির্ভর করার জন‍্য একাধিক প্রকল্প চালু করেছেন। তাই বিজেপি ছেড়ে আমি শুধু না আমার সংসদের সব মহিলারাই তৃণমূলে যোগদান দিয়েছি।

তবে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদানের বিষয়টি ভিত্তহীন বলে দাবি করেছে চাঁচলের বিজেপি মন্ডল সভাপতি দেবনাথ পান্ডে। তিনি বলেন, যদিও জনাকয়েককে ভয় ও  অর্থের প্রলোভন  দেখিয়ে তৃণমূলে টেনেছে। আর লক্ষ্ণীর ভান্ডার প্রকল্প কদিন চলবে। সেটাই দেখব।

এই লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প নিয়ে বিতর্ক চলছেই। যখন ফরম দেওয়া হচ্ছিল রাজ্যজুড়ে দেখা গিয়েছিল বিশৃঙ্খলা। যা নিয়ে কটাক্ষ করেছিল বিরোধীরা। যদিও তৃণমূল বারবার দাবি করেছে এতে উপকৃত হচ্ছে সমাজের সাধারণ মহিলারা। তাই তারা সমর্থন করছে তৃণমূলকে।