কাঠগড়ায় কেন্দ্রের নীতি, প্রশ্নের মুখে প্রধানমন্ত্রীর ‘টিকা উৎসব’

অমৃতা পান্ডে (নয়াদিল্লি): আবারও লাফিয়ে বাড়ছে করোনার গ্রাফ। পাল্লা দিয়ে উর্দ্ধমুখী হচ্ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। এই অবস্থায় দেশে প্রতিষেধকের হাহাকার দেখা দিলেও আশু কোনও সমাধানের আশা দেখছেন না স্বাস্থ্যকর্তারা। সিরাম ইনস্টিটিউট ও ভারত বায়োটেক তাদের দুই প্রতিষেধক, যথাক্রমে কোভিশিল্ড ও কোভ্যাক্সিনের উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেও আগামী এক-দেড় মাসের আগে তার সুফল পাওয়া মুশকিল বলেই মনে করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে অন্য প্রতিষেধকগুলি যত দিন না বাজারে আসছে, তত দিন প্রতিষেধকের ঘাটতি সামগ্রিকভাবে মেটানো কঠিন বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। দেশে প্রতিষেধক যখন বাড়ন্ত, তখন প্রধানমন্ত্রীর ডাকে গতকাল থেকে শুরু হওয়া ‘টিকা উৎসব’ কতটা সফল হবে, তা নিয়েও ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

প্রশ্ন উঠেছে কেন্দ্রের প্রতিষেধক নীতি নিয়েও। গোড়া থেকেই প্রতিষেধক বণ্টনের প্রশ্নে কেন্দ্রীভূত নীতি নিয়েছিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। রাজ্যগুলিকে খোলা বাজার থেকে প্রতিষেধক কিনতে দেওয়া তো দূর, কোনও রাজ্যকে কত প্রতিষেধক দেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্তও শুরু থেকেই নিয়ে এসেছে কেন্দ্র। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রাজ্যের দাবিকে উপেক্ষা করার পাশাপাশি অভিযোগ উঠেছে স্বজনপোষণেরও। শুরু থেকেই বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিকে বেশি করে  প্রতিষেধক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মহারাষ্ট্রের চেয়ে গুজরাতের জনসংখ্যা অর্ধেক হওয়া সত্ত্বেও দুই রাজ্যকেই সমন সংখ্যায় প্রতিষেধক দেওয়া হয়েছে! এ নিয়ে মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেশ টোপে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন। একই অভিযোগ কংগ্রেস শাসিত ছত্তীসগড়েরও। প্রতিষেধক কুক্ষিগত করে রাখার কেন্দ্রীয় নীতির কারণে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়েছে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞদের একাংশ। রাজ্যগুলিকে খোলা বাজার থেকে প্রতিষেধক কেনার সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল বলে বিশেষজ্ঞদের একাংশ সরব হলেও নীতি আয়োগের সদস্য বিনোদ পলের মতে, এতে ধনীরাই প্রতিষেধক কেনার সুযোগ পেতেন।

এ দিকে আজ সমস্ত রেকর্ড ভেঙে ১,৪৫,৩৮৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন গোটা দেশে। সব মিলিয়ে দেশে সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা ১০ লক্ষ ছাড়িয়েছে। তার মধ্যে গত পাঁচ দিনেই আক্রান্ত হয়েছেন ৬ লক্ষের বেশি মানুষ। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গিয়েছেন ৭৯৪ জন। দেশের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা মহারাষ্ট্রে। এই পরিস্থিতিতে প্রতিষেধকের মাধ্যমে করোনার সংক্রমণ রুখতে ১১ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ‘টিকা উৎসবে’র ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু টিকার অভাবে যখন অধিকাংশ বেসরকারি টিকাকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, সেখানে ‘টিকা উৎসব’ হবে কী দিয়ে, সেই প্রশ্ন আজ তুলেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীওয়াল। অন্যদিকে প্রতিষেধকের অভাব নিয়ে সরব হয়েছে কংগ্রেসশাসিত রাজ্যগুলিও। যদিও স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, এই মুহূর্তে অন্তত ৪০ লক্ষের বেশি প্রতিষেধক বিভিন্ন রাজ্যকে পাঠানোর পর্যায়ে রয়েছে। যা দিয়ে আগামী ৭-১০ দিনের টিকাকরণ সেরে ফেলা যাবে। কিন্তু তাতে সামগ্রিক চিত্র যে বিশেষ বদলাবে না, তা কার্যত মেনে নিয়েছেন স্বাস্থ্যকর্তারা।

ক্লিক করে পড়ুন ‘সাতসকাল’ ই-খবরের কাগজ

The post satsakal 06-05-2021 appeared first on satsakal.com.