গোটা বিশ্ব ঘুরতে পারেন, কৃষকদের সঙ্গে দেখা করার সময় নেই, মোদিকে কটাক্ষ প্রিয়াংকার

প্রধানমন্ত্রীর নিজের ঘর গড় বারাণসীতে দাঁড়িয়ে  প্রধানমন্ত্রীকে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করলেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধি। কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক রবিবার বারাণসীতে কিষাণ ন্যায় সভা থেকে রবিবার কেন্দ্রকে তোপ দেগে বলেন, সরকার কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ছেলেকে আড়াল করছে। এবং কেন্দ্র কোনওদিন কৃষকদের সমস্যার কথা সহানুভূতি দিয়ে দেখেনি।

বারাণসীর সভা থেকে প্রিয়াঙ্কার কটাক্ষ, “গত সপ্তাহে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ছেলে ছজন কৃষককে পিষে দিলেন নিজের গাড়ি দিয়ে। নিহতদের পরিবার বিচার চান, কিন্তু আপনারা সবাই দেখতে পাচ্ছেন সরকার কীভাবে মন্ত্রী এবং তাঁর ছেলেকে বাঁচাচ্ছে। কোনও দেশে এমন দেখেছেন যে, যিনি কৃষকদের পিষে দিলেন তাঁকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে পুলিশ কথা বলার জন্য?” তিনি আরও বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী নিজে মন্ত্রীকে জনসমক্ষ থেকে আড়াল করছেন। প্রধানমন্ত্রী লখনউ এলেন উত্তর প্রদেশের পারফরম্যান্স দেখতে আজাদি কা অমৃত মহোৎসব পালন করতে। কিন্তু লখিমপুর খেরিতে গিয়ে নিহতদরে পরিজনদের দুঃখ ভাগ করে নিতে পারলেন না।”

শনিবারই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় মিশ্রর ছেলে আশিসকে ১২ ঘণ্টার ম্যারাথন জেরার পর গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ডিআইজি উপেন্দ্র কুমার আগরওয়াল জানান, “জেরায় অনেক তথ্য গোপন করেন আশিস। তদন্তে সহযোগিতা করছিলেন না তিনি। অসহযোগিতা এবং বয়ানে অসঙ্গতির কারণে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁকে হেফাজতে নিয়েছি আমরা। তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে। তাঁকে আরও জেরা করার জন্য পুলিশি হেফাজত চাওয়া হবে আদালতের কাছে।”

এই প্রসঙ্গে মোদিকে আক্রমণ করে প্রিয়াঙ্কা বলেছেন, “কৃষকরা ৩০০ দিন ধরে আন্দোলনে বসে রয়েছেন। সেই সময়ের মধ্যে ৬০০-র বেশি কৃষক মারা গিয়েছেন। তাঁরা প্রতিবাদ করছেন কারণ যাতে তাঁদের রোজগার, জমি এবং ফসল সরকারের ধনী বন্ধুদের পকেটে না চলে যায়। প্রধানমন্ত্রী মোদি গোটা বিশ্ব ঘুরতে পারেন, কিন্তু কৃষকদের সঙ্গে দেখা করার ওঁর সময় নেই।” প্রিয়াঙ্কা আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী প্রতিবাদী কৃষকদের বলেছিলেন, আন্দোলনজীবী এবং সন্ত্রাসবাদী। যোগীজি তাঁদের দুষ্কৃতী বলেছেন, হুমকিও দিয়েছেন। এই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও বলেছিলেন, ২ মিনিটে কৃষকদের শুধরে দেবেন। কিন্তু কেউ কৃষকদের দুর্দশা দেখতে পাচ্ছেন না।”

এদিকে, লখিমপুর কাণ্ডে এবার সুরবদল বিজেপি সাংসদ বরুণ গান্ধির। কয়েক দিন আগেই এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে চিঠি লেখেন পিলভিটের সাংসদ। দোষীদের গ্রেফতার করে উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানান মানেকা গান্ধির ছেলে। তার পরেই বিজেপি জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য তালিকা থেকে তাঁকে এবং মানেকাকে সরানো হয়। এবার লখিমপুর নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন গান্ধি পরিবারের সদস্য।

রবিবার তিনি বলেছেন, লখিমপুর খেরিতে হিন্দু বনাম শিখের সংঘাত বাধানোর চেষ্টা হয়েছে। এই প্রচেষ্টাতে অনৈতিক এবং ভয়ঙ্কর বলে ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। তিনি সমস্ত রাজনৈতিক দলের উদ্দেশে বলেছেন, জাতীয় একতার আগে রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ না করতে।

এদিন টুইট করে বরুণ লেখেন, “লখিমপুর খেরির ঘটনাকে হিন্দু বনাম শিখ যুদ্ধ করার চেষ্টা হয়েছে। এটা অনৈতিক তো বটেই, এবং মিথ্যাচারও। এমন ভুল পথ ধরলে ফল ভয়ঙ্কর হবে। পুরনো ক্ষত খুঁচিয়ে তুললে আরেক প্রজন্ম কেটে যাবে সারতে। আমাদের উচিত, জাতীয় একতার আগে রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ না করা।”