মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে সুদূর আমেরিকা থেকে মেদিনীপুরের প্রত্যন্ত গ্রামে পুজোর নতুন জামা!

তারক হরি : সামাজিক গণমাধ্যম বা সোস্যাল মিডিয়া বর্তমানে খুবই একটা প্রাসঙ্গিক অধ্যায়। বিশ্বের দরবারে যেকোনও প্রান্তে থাকা কোটি কোটি মানুষের সাথে যোগাযোগ হচ্ছে মাত্র ছোট্ট একটি ছোঁয়াতেই! এই সোস্যাল মিডিয়া বা গণমাধ্যমে যুক্ত রয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা কোটি কোটি মানুষ। একে অপরের পাশে পৌঁছে যাচ্ছে অতি সহজেই। আর এই মাধ্যমকে ভর করেই সুদূর আমেরিকা থেকে এক সহৃদয় দম্পতি তাঁদের মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামের কচিকাচাদের হাতে তুলে দিল পুজোর নতুন জামা!

সাত সমুদ্র তেরো নদীর পার থেকে কোনও এক অজপাড়া গাঁয়ের কাছে আসা এই সুন্দর উপহার, তা কোনও অংশেই কি রূপকথার গল্পের থেকে কম হল!

উল্লেখ্য, আমেরিকার নিউজার্সিতে বসবাসকারী তনিমা রায়ের সাথে সোস্যাল মিডিয়ায় মাধ্যমে পরিচয় ঘটে কেশিয়াড়ী ব্লকের খাজরা এলাকার গৃহশিক্ষক বরুন কুমার দাস-এর। যিনি গৃহশিক্ষকতার পাশাপাশি প্রত্যন্ত এলাকায় নানান সামাজিক কাজকর্মের সাথে যুক্ত থাকেন।

ওই শিক্ষককে সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রবাসী মহিলা জানান, তাঁদের একমাত্র মেয়ে অদ্রিজা’র ইচ্ছে ছিল আর পাঁচটা বছরের থেকে একটু অন্যরকম কাটাতে, তাই সে ওখানে জন্মদিন পালন না করে, যদি সেই টাকা খরচ করে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের কিছু নতুন জামা কাপড় দেওয়া যায়! অর্থাৎ তার জন্মদিনটিকে একটু অন্যরকমভাবে পালন করতে চান প্রবাসী কন্যা অদ্রিজা। একথা শোনার পরেই সায় দেন ওই গৃহশিক্ষক বরুণ কুমার দাস।

আমেরিকার নিউজার্সিতে থাকা প্রবাসী ভদ্রমহিলা তনিমা রায় জানান বৃহস্পতিবার তাদের একমাত্র মেয়ে অদ্রিজার জন্মদিন ছিল। আদ্রিজা বর্তমানে আজ দশম শ্রেনীর ছাত্রী।

তাদের এই মহানুভব ইচ্ছাকে মান্যতা দিয়েই গৃহশিক্ষক বরুণ কুমার দাসের তত্ত্বাবধানে ওই প্রবাসী দম্পতির অর্থানুকূল্যে বৃহস্পতিবার কেশিয়াড়ী ব্লকের দরবারমেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৯৬ জন ছাত্র ছাত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হয় নতুন পোষাক। আর এই পুজোর আগে কার্যত হাতে নতুন জামা কাপড় পেয়ে কচিকাচাদের মুখে ফুটে উঠেছে নির্ভেজাল এক হাসির ঝলক!