ধর্ষণ-অভিযুক্তদের এনকাউন্টার ও তিনটি প্রশ্ন

নরেন্দ্রনাথ কুলে : তেলেঙ্গানার ধর্ষণ ও জঘন্য খুনের ঘটনায় জড়িত চারব্যক্তি কাকভোরে তেলেঙ্গানার পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে যাচ্ছিল। তাই পুলিশ এনকাউন্টার করে তাদের  মেরে দিল। দেশজুড়ে এ ঘটনার পক্ষে ও বিপক্ষে নানা মতের ঝড় বয়ে চলেছে। পক্ষে যারা, তারা তেলেঙ্গানা পুলিশকে বাহবা দিচ্ছে। কারণ, তাদের বিচারের রায় পর্যন্ত ধর্ষণকারীদের শাস্তির জন্য    অপেক্ষা করতে সহ্য হয় না। কে আইন হাতে তুলে নিল কি আসে যায় তাতে। জঘন্য আসামির মৃৃত্যুদন্ড হয়েছে এটাই যথেষ্ট। এখানে তবু আইন রক্ষকই আইন হাতে তুুলে নিয়েছে। তা বিচার শুরু হল কি হল না এই পক্ষের মানুষদের কাছে গৌণ বিষয় হতে পারে। আর যারা এই  এনকাউন্টারের বিপক্ষে তাদের কাছে নানা প্রশ্ন উঠে আসে। প্রথমেই যেটা হল, পুলিশ ছাড়া আর কেউ জানে না, যে তারা পালিয়ে যাচ্ছিল। দুই, ঘটনার সময় কাকভোর। তিন, সন্ধানের জন্য আসামিদের ঘটনাস্থলে এই কাকভোরে নিয়ে যাওয়ার যৌক্তিকতা কি? প্রশ্নগুলোর মধ্যে লুকিয়ে আছে অনেক প্রশ্ন।

এই তিনটি প্রশ্নের পিছনে এক অজানা পরিচালকের ছায়া যে কাজ করতে পারে তা কিন্তু উড়িয়ে দেওয়া যায় না। হয়তো এই পরিচালকই চার খুনিরই পরিচালক যে অত্যন্ত প্রভাবশালী যার সম্পর্ক এই ঘটনার সাথে জড়িয়ে আছে। তাই হয়তো চার খুনিকে আইনের হাতে খুন হতে হল এনকাউন্টারের ছদ্মবেশে।

উন্নাওকান্ডে আদালতের পথে ধর্ষিতাকে পুড়িয়ে মারার যে চেষ্টা তা থেকে পরিষ্কার হয়ে যায় যে ধর্ষণে অভিযুক্ত  ব্যক্তি নিজেকে বাঁচানোর জন্য তার শেষ চেষ্টা। তিনি যে কতটা প্রভাবশালী তা এই ফিল্মি কায়দায় ঘটনা ঘটানো থেকে পরিষ্কার। এ ক্ষেত্রে ছবি যতটা পরিষ্কার, তেলেঙ্গানার এনকাউন্টারের ছদ্মবেশে কে তার পরিচয় আর পাওয়া সম্ভব হবে কি?  কারণ, সর্ষে আর ভূত যদি সহবাস করে।

ক্লিক করে পড়ুন ‘সাতসকাল’ ই-খবরের কাগজ

The post satsakal 08-05-2021 appeared first on satsakal.com.