দিল্লি থেকে গ্রেপ্তার এটিএম জালিয়াতি চক্রের অন্যতম চাঁই

এটিএম জালিয়াতি চক্রের অন্যতম চাঁইকে গ্রেপ্তার করল গোয়েন্দা দপ্তরের ব্যাঙ্ক ফ্রড সেকশন

ডিসেম্বর মাসের গোড়া থেকেই এটিএম জালিয়াতিকে কেন্দ্র করে বহু অভিযোগ জমা পড়ছিল যাদবপুর ও চারু মার্কেট থানায়। নয় নয় করে প্রায় ৮০ জন জানান, তাঁদের অজ্ঞাতসারে প্রত্যেকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নিয়েছে অচেনা কেউ। দেখা যাচ্ছিল, প্রতিটি ক্ষেত্রেই টাকা তোলা হয়েছে নয়াদিল্লির বিভিন্ন এটিএম কাউন্টার থেকে। অথচ, টাকা তোলার সময়ে প্রতারিতরা প্রত্যেকেই উপস্থিত ছিলেন কলকাতায়।

স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল, এটা কোনও সাধারণ প্রতারকের কাণ্ড নয়। রীতিমতো সংগঠিত একটি গ্যাং রয়েছে এর পিছনে। যাদবপুর ও চারু মার্কেট থানার থেকে এই কেসের তদন্তভার গ্রহণ করে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা দপ্তরের ব্যাঙ্ক ফ্রড সেকশন।

যাদবপুর ও চারু মার্কেট থানা অঞ্চলের প্রতিটি এটিএম কাউন্টার খতিয়ে পরীক্ষা করতে শুরু করেন ব্যাঙ্ক ফ্রড সেকশনের তদন্তকারী অফিসারেরা। দ্রুতই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের দুটি এটিএমকে চিহ্নিত করা হয়। এই দুটি এটিএমেই ‘এটিএম স্কিমিং মেশিন’ বা ‘স্কিমার’ লাগিয়েছিল প্রতারকরা। স্কিমার একটা ছোট্ট যন্ত্র। সাধারণ চোখে ধরা পড়ার উপায়ই নেই। অথচ, কেউ সেই এটিএম কাউন্টার থেকে টাকা তুলতে এলেই এটিএমের মাইক্রো চিপে সংরক্ষিত যাবতীয় তথ্য জমা হয়ে যেত মেশিনে আটকানো স্কিমারে। এভাবে, এটিএম ব্যবহারকারীদের পিন নম্বরও জানতে পেরে যেত প্রতারকরা। সেই তথ্য ব্যবহার করেই বানিয়ে নিত জাল এটিএম কার্ড। তারপর, সুদূর নয়া দিল্লি থেকে জাল এটিএম কার্ডের সাহায্যে তুলে নিত টাকা। এভাবেই প্রায় ৮০ জনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে বিপুল টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল এই চক্র। স্বাভাবিকভাবেই, আতঙ্কিত হয়ে পড়ছিলেন এটিএম ব্যবহারকারী অন্যান্য শহরবাসীরাও।

তদন্তকারী অফিসারেরা জানতে পেরেছিলেন, লাজপত নগর, গ্রেটার কৈলাস, নেহেরু প্লেস, মালভিয়া নগর, হৌজ খাস, অলকানন্দা, কৈলাস কলোনির মতো দিল্লির মোট ৯টি অঞ্চলের ভিন্ন ভিন্ন এটিএম কাউন্টার থেকে টাকা তুলেছিল প্রতারকরা। দ্রুতই দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেয় ব্যাঙ্ক ফ্রড সেকশনের বিশেষ টিম। শুরু হয় কড়া নজরদারি ও প্রযুক্তি প্রহরা।

গতকাল সকালে, মালভিয়া নগরের একটি এটিএম থেকে টাকা তোলার সময়ে একজন সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করে ব্যাঙ্ক ফ্রড সেকশনের বিশেষ টিম। কিছুক্ষণ ধরেই নজর রাখা হচ্ছিল তার ওপর। বিপদ আঁচ করে হঠাৎই অটো ধরে পালানোর চেষ্টা করে লোকটি। সঙ্গে সঙ্গেই আরেকটি অটোতে চেপে তাকে ধাওয়া করেন তদন্তকারী অফিসারেরা। রাজধানীর রাজপথে শুরু হয় ফিল্মি কায়দার ‘চেজ’। কিন্তু গ্রেটার কৈলাস এলাকায় অটো থেকে নেমে সরু রাস্তার ভিড়ে দ্রুত মিশে যায় সে। সেই ভিড়ে তখন তার নাগাল পাওয়া আর সম্ভব হয়নি তদন্তকারী অফিসারদের পক্ষে।

লোকটির খোঁজে তল্লাশি শুরু হয় গোটা এলাকায়। একাধিক ফ্ল্যাটে হানা দিয়ে অবশেষে দুপুরেই তাকে গ্রেপ্তার করেন ব্যাঙ্ক ফ্রড সেকশনের তদন্তকারী অফিসারেরা। সিলভিউ ফ্লোরিন স্পিরিডন, রোমানিয়ার নাগরিক। এই গোটা প্রতারণা চক্রের অন্যতম মাথা। তার গোপন ডেরাকে ‘ডেরা’ না বলে জালিয়াতির রসায়ানাগার বলাই ভাল। তল্লাশি চালিয়ে দেড় লক্ষ নগদ টাকা ছাড়াও বাজেয়াপ্ত করা হয় ম্যাগনেটিক চিপ, ব্যাটারি, পিনহোল ক্যামেরা চিপ, ল্যাপটপ, এটিএম স্কিমার যন্ত্রের নানা কলকব্জা, একাধিক নকল ফাঁকা কার্ড, আঠা, সেলো-টেপ ও কয়েকটি বেসবল টুপি। এটিএম থেকে টাকা তোলার সময়ে যাতে সিসিটিভি ফুটেজে তার মুখ না দেখা যায়, সে জন্যই টুপিগুলি ব্যবহার করত সিলভিউ। বাজেয়াপ্ত হওয়া বাদবাকি সব জিনিসই যে এটিএমের তথ্য চুরি ও নকল এটিএম কার্ড তৈরির কাজে লাগত, লেখা বাহুল্য।

এই চক্রের সঙ্গে জড়িত সিলভিউ-এর কয়েকজন শাগরেদকেও চিহ্নিত করেছেন তদন্তকারী অফিসারেরা। তাদের খোঁজও চলছে। ধরা পড়বে দ্রুতই।

 

সূত্র: কলকাতা পুলিশ ফেসবুক পেজ

 

ক্লিক করে পড়ুন ‘সাতসকাল’ ই-খবরের কাগজ

The post satsakal 08-05-2021 appeared first on satsakal.com.