পরিবেশ দূষণ রোধে যে অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছে তা আদৌ কি বাস্তবায়িত হবে?

জলবায়ু পরিবর্তন অধিবেশন শুরু হয়েছে মাদ্রিদে, চলবে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত

নরেন্দ্রনাথ কুলে:  ২ ডিসেম্বর থেকে ইউএন জলবায়ু পরিবর্তন অধিবেশন শুরু হয়েছে মাদ্রিদে। চলবে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত।  গ্রিনহাউস গ্যাস  নিঃসরণ কম করে পৃথিবীর তাপমাত্রা কোনও মতেই যাতে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি না বাড়ে,  সম্ভব হলে দেড়  ডিগ্রির মধ্যে ধরে রাখার অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছিল। যা কিয়োটো প্রটোকল থেকে প্যারিস চুক্তিতে নথিবদ্ধ হয়েছিল তা কতটা ভবিষ্যতে সম্ভব হবে বা এ পর্যন্ত তা অঙ্গীকার নিয়ে কতটা কাজ হয়ে চলেছে তা আলোচনায় উঠে আসবে এই অধিবেশনে। যদিও এর আগে গত ২১-২৩ সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে ইউএন জলবায়ু পরিবর্তন সামিট হয়ে গেছে।  উল্লেখযোগ্য বিষয় হল  যে এই অধিবেশনে সবথেকে শক্তিধর দেশ আমেরিকার এ ব্যাপারে উচ্চবাচ্য করার জন্য তার কোনও হেলদোল ছিল না। তাই কোনও কথাই সে বলেনি এই অধিবেশনে। অথচ উষ্ণায়নের উষ্ণতা বৃদ্ধির মূলে গ্রিন হাউসের প্রভাব রয়েছে। যার ৮৫% কার্বন ঘটিত। so

so যে দেশ যত উন্নত সেই দেশ বছরে মাথাপিছু গড়ে তত বেশি কার্বন নিঃসরণ করে। এই তালিকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২৫ টন, কানাডা ২৩ টন, রাশিয়া ১৩ টন, জার্মানি ১২ টন আর ব্রিটেন, জাপান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো ১১ টন করে বছরে মাথাপিছু কার্বন নিঃসরণ করে। যেখানে ভারত ও বাংলাদেশ ২ ও ১ টন করে। তাহলে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী এই ধনী দেশগুলো। যার ফলভোগ করতে হচ্ছে ভারতসহ অন্যান্য উপকূলবর্তী  অনুন্নত দেশগুলোকে।  যা নিয়ে ২০১৮-র ডিসেম্বরে পোল্যান্ডের সম্মেলনে রাষ্ট্র্র্রসংঘের মহাসচিব বলেন, ‘প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়ন না হলে এটা হবে আত্মঘাতী। যার ফলস্বরূপ সবুজ অর্থনীতির অপেক্ষায় থাকা মানুষরা ভয়ানক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।’  বিশ্বব্যাংকের সিইও আরও সতর্ক করে বলেছেন, ‘ এটা নিশ্চিত যে জলবায়ু পরিবর্তনের লাগাম টেনে ধরার সর্বশেষ প্রজন্ম  আমরাই। যদি  এখনই কার্যকর করতে না পারা  যায় তা হলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থ প্রথম প্রজন্ম হব আমরাই।’ so

আরও পড়ুন: লোকসভায় ধ্বনি ভোটে পেশ হল নাগরিক সংশোধনী বিল

so যারা দেশ চালাচ্ছে বিশেষ করে ধনী দেশগুলোর কাছে এঁদের কথাগুলোর কি আদৌ গুরুত্ব আছে? গুরুত্ব নেই বলেই আজ প্রতি চারজনের একজনের মৃত্যুর কারণ পরিবেশ দূষণ। অথচ এই দূষণের প্রতিবাদে আজকে এশিয়া ইউরোপ জুড়ে স্কুলের ছাত্ররা পথে নেমেছে। গ্রেটার নামের মেয়েটির আন্দোলন আজ সারা বিশ্বজুড়ে।

বিশ্বের দরবারে শক্তিধর দেশ হিসেবে ভারত আজ নিজেকে প্রমাণ করেছে। কিন্তু সেই শক্তি নিয়ে রাষ্ট্রসংঘে দাঁড়িয়ে ধনী দেশগুলোকে কার্বন নিঃসরণ কমাতে চাপ দিতে পারবে কি  ?  এই অধিবেশনে আমাদের ভবিষ্যত বাঁচানোর পদক্ষেপ হিসেবে সবাই সত্যি দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ হবে কি? আর এ দেশের অভ্যন্তরে দূষণ কমানোর ফলপ্রসূ প্রচেষ্টা প্রয়োগ করতে আদৌ কতটা পারবে, তা আগামীদিন বলবে।

ক্লিক করে পড়ুন ‘সাতসকাল’ ই-খবরের কাগজ

The post satsakal 06-05-2021 appeared first on satsakal.com.