অনুশোচনা থেকে শেষ পরিণতি- চলে গেলেন প্রিয় অভিনেতা

বিকাশচন্দ্র ঘোষ: অনুশোচনা থেকে শেষ পরিণতি- চলে গেলেন প্রিয় অভিনেতা। আমার প্রিয় অভিনেতা চলে গেলেন। খুব কষ্ট হচ্ছে। উত্তমকুমার পরবর্তী যুগে বাংলা চলচ্চিত্রকে যিনি অনাথ হতে দেননি তিনি তাপস পাল। নিজের প্রতিভা ও অসাধারণ অভিনয়ে বাংলা সিনেমাকে ভরিয়ে তুলেছিলেন। দাদার কীর্তি থেকে পথ চলা শুরু। তারপর একে একে কালজয়ী সৃষ্টি বাংলা চলচ্চিত্রকে মণিমুক্তে ভরিয়ে তুলেছিলেন তিনি।

তাঁর অসাধারণ অভিনয় বাংলা দর্শককে হাসিয়েছে, কাঁদিয়েছে।

যে সিনেমা গুলোর নাম না বললেই চলে না:

দাদার কীর্তি, সাহেব, অনুরাগের ছোঁওয়া, গুরুদক্ষিণা, ভালোবাসা ভালোবাসা, কড়ি দিয়ে কিনলাম, আগমন, পথ ভোলা, অজান্তে, নীলিমায় নীল, কেনারাম বেচারাম উল্লেখযোগ্য। নাট্যমঞ্চেও অসাধারণ ছিলেন তাপস পাল। তাঁর অভিনীত মামা ভাগ্নে নাটক বাংলা নাট্যমঞ্চকে মাতিয়ে রেখেছিল দীর্ঘ দিন।

আরও পড়ুন: রাজভবনে এক ঘণ্টার বৈঠক, স্বার্থ কার রাজ্যপাল না মুখ্যমন্ত্রীর?

উত্তম-সুচিত্রা জুটির পর তাপস-মহুয়া জুটি আশার আলো জ্বালিয়েছিল বাংলা রূপালি পর্দায়। তাঁদের জুটির রোমান্টিক অভিনয়ে ছিল এক অসাধারণ মাদকতা। বাঙালি প্রেমকে যেন নতুন পথ দেখিয়েছিল এই জুটি। তাঁদের অভিনীত অনুরাগের ছোঁওয়া কিংবা অজান্তে, কেনারাম বেচারাম বা আশীর্বাদের প্রেম যেন চিরকালীন বাংলার প্রেমের মনন। কিন্তু মহুয়ার হঠাৎ চলে যাওয়া এই রোমান্টিক জুটি পরিপূর্ণতা পায়নি। পরবর্তীতে তাপস-দেবশ্রী ও তাপস-শতাব্দী জুটি বহু হিট ছবি উপহার দেয়। তাপস-দেবশ্রীর ভালোবাসা ভালোবাসা কিংবা তাপস-শতাব্দীর গুরুদক্ষিণা দেখেননি এমন সিনেমাপ্রেমী খুব কম আছেন।

এমন একজন অভিনেতা রাজনীতিতে এসেও সফল হন। প্রথমে আলিপুর থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তাপস পাল নদিয়ার কৃষ্ণনগর থেকে দু’দুবার সাংসদ নির্বাচিত হন। এলাকার সার্বিক উন্নয়নে তাপস পাল তাঁর সাংসদ কোটার অর্থ খরচে যথেষ্টই সফল ছিলেন।

এমন জনপ্রিয় অভিনেতা ও ভালো মনের মানুষ তাপস পাল শেষের দিকে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনে এমন সব বিতর্কে জড়ান যার থেকে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি নিয়ে আর খোলা মনে জনগনের সামনে দাঁড়াতে পারেননি। বিশেষ করে চিটফান্ড মামলায় জেলে যাওয়ার পর মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। অসুস্থতা হয়ে উঠেছিল জীবনের সঙ্গী।

সাংবাদিকতার সূত্রে তাপস পালকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। তাঁর বাড়িতে গিয়েছি বহুবার। তিনি যখন সাংসদ ছিলেন নিয়মিত ফোনে কথা হতো। তাপস পাল ছিলেন আমার প্রিয় অভিনেতা। পরবর্তীতে আমার দাদা। বুঝতে পারছিলাম একের পর এক বিতর্কে যে ভাবে কালিমালিপ্ত হয়ে উঠেছেন তাতে করে অনুশোচনায় ভুগছেন তিনি। সেই জায়গা থেকে আর বেড়িয়ে আসতে পারলেন না। যে মানুষটি চিরকাল জনগনের সঙ্গে থাকতে ভালবাসতেন সেই মানুষটিই জনগনের মুখোমুখি হতে সাহস পাচ্ছিলেন না। আজ তিনি চলে গেলেন চিরকালের মতো। রয়ে গেল তাঁর হাজার স্মৃতি। তাপস পালের কাছ থেকে যে আতিথেয়তা পেয়ছি কোনও দিন ভুলব না।

ক্লিক করে পড়ুন ‘সাতসকাল’ ই-খবরের কাগজ

The post satsakal 06-05-2021 appeared first on satsakal.com.