সাতদিন পর জিয়াগঞ্জে খুনের কিনারা করল পুলিস

সাতদিন পর জিয়াগঞ্জে খুনের কিনারা করল পুলিস। মুশির্দাবাদের জিয়াগঞ্জে একই পরিবারের তিনজনকে নৃশংসভাবে খুনের পিছনে মূল অভিযুক্ত উৎপল বেহেরাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল আগেই। এরপর মঙ্গলবার তদন্তের শেষে এসে জানা গেল প্রতারণার প্রতিহিংসা থেকেই নাকি খুন করা হয়েছে শিক্ষক ও তাঁর পরিবারকে। পুলিস সূত্রে খবর, দশমীর দিন বেলা ১২টা ৬ থেকে ১২টা ১১ পর্যন্ত সময় অর্থাৎ মাত্র ৬ মিনিটের ব্যবধানেই খুন করা হয়েছিল ওই তিনজনকে। প্রাপ্য টাকা ফেরত না পেয়েই সপ্তমী থেকে খুনের ছক কষেছিল অভিযুক্ত উৎপল বেহরা। পুলিসের দাবি, জেরায় খুনের কথা কবুল করেছে অভিযুক্ত উৎপল।

একাধিক বিমা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মৃত বন্ধুপ্রকাশ পাল। উৎপলও তাঁর কাছে বিমার টাকা দেয়। রশিদ চাইতে গিয়ে উৎপল জানতে পারেন, তার দেওয়া বিমার টাকা আদতে জমাই পড়েনি। তাই হিসেব মত, মৃত শিক্ষকের কাছ থেকে ৪৮ হাজার টাকা পেত উৎপল। অভিযোগ, এরপর টাকার জন্য বন্ধুপ্রকাশকে চাপ দেয় সে। কিন্তু উৎপলের কথা না শুনে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন মৃত শিক্ষক। এর প্রতিশোধের জেরে দুর্গাপুজোর দশমী দুপুরে নিজের বাড়িতে খুন হন বন্ধুপ্রকাশ পাল, তাঁর স্ত্রী বিউটি পাল ও তাঁদের ছেলে অঙ্গন। পুলিস জানিয়েছে, ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকেই এই খুন করা হয়েছে। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগাযোগ নেই। পাশাপাশি তদন্তে জানা গিয়েছে, বন্ধুপ্রকাশের শেষ কথা হয়েছিল উৎপলের সঙ্গেই। এরপর খুন করে বোনের বাড়িতে আশ্রয় নেয় উৎপল। যদিও খুনের কথা অস্বীকার করেছে উৎপলের পরিবার। তাঁর মা-এর দাবি “তাঁদের ছেলে নির্দোষ”। ছেলেকে ফাঁসানো হয়েছে।

জানা গিয়েছে, খুনের পর পোশাক বদলে ফেলেছিল উৎপল। এরপর দুধওয়ালা বাড়িতে আসতেই তাঁকে ধাক্কা দিয়ে পালায় সে। তদন্তে নেমে বিছানায় মৃতদেহর পাশেই বিমার কাগজ উদ্ধার করে পুলিস। যে কাগজে লেখা ছিল উৎপল বেহরার নাম। তদন্তে জোড়া সূত্রের হদিশ মিলতেই পুলিসের জালে ধরা পড়ে উৎপল বেহরা। আটক করা হয় তাঁর বোনকেও।

 

ক্লিক করে পড়ুন ‘সাতসকাল’ ই-খবরের কাগজ

The post satsakal 12-05-2021 appeared first on satsakal.com.