কাকে সুবিধা পাইয়ে দিতে বিতর্কিত মন্তব্য করছেন দিলীপ ঘোষ?

দিলীপ ঘোষের নানান বিতর্কিত মন্তব্যে লাভ কার?

বিকাশচন্দ্র ঘোষ: কাকে সুবিধা পাইয়ে দিতে বিতর্কিত মন্তব্য করছেন দিলীপ ঘোষ? কখনও তিনি গরুর দুধে আবিষ্কার করেছেন সোনা আবার কখনওবা তিনি আবিষ্কার করেছেন ঐশী ঘোষের মাথার গভীর ক্ষত থেকে নাকি বেরিয়ে এসেছে লাল রং! তাঁর এই নতুন  আবিষ্কারের বহর দেখে হাততালি দিয়েছেন ভক্তরা। তিনি আর কেউ নন, রাজ্য বিজেপির দোর্দণ্ডপ্রতাপ সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি স্বদর্পে অ্যাম্বুলেন্সও ঘুরিয়ে দিতে পারেন অন্য পথে। ৬ নম্বর মুরলীধর সেন লেনের গেরুয়া বাড়ির সর্বময় কর্তা এখন তিনিই। সায়ন্তন বসু, জয়প্রকাশ মজুমদারের মতন তাঁর পারিষদরাও কম যান না। দাদার গর্বে গৌরাম্বিত তারাও!

রাজ্য বিজেপির অন্দরমহলের খবর, দিলীপ ঘোষ গোষ্ঠীর দাপটে দলের অন্য শিবিরের নেতারা এখন যথেষ্টই ব্যাকফুটে। এরই মধ্যে আদি এবং নব্য’র বিভাজন আড়াআড়িভাবে ভাগ হয়ে রয়েছে। বিভিন্ন দল থেকে অনেকেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। নাম গোপন রাখার শর্তে ওই গেরুয়া বাড়ির এক ম্যানেজার বলেন, দিলীপবাবুর শিবিরের না হলে তিনি যত বড় নেতাই হোন না কেন হালে পানি পাবে না। ৬ নম্বর মুরলীধর সেন লেনের ওই বাড়িটা এখন কুক্ষিগত করে রেখেছেন তাঁরাই।

সংবাদ শিরোনামে সবসময়ই দিলীপ ঘোষ। কখনওবা মাথা ভেঙে দেওয়ার হুঁশিয়ারি কখনও বা অ্যাম্বুলেন্স ঘুরিয়ে দিয়ে বেশ করেছি ধাঁচের মন্তব্য। দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে দুষ্কৃতী তাণ্ডব মাথায় গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয় সেখানকার ছাত্র সংসদের সভাপতি ঐশী ঘোষের। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হতে হয়েছিল তাঁকে। এই ঘটনায় গেরুয়া শিবিরের দিকেই আঙুল ওঠে।

আরও পড়ুন: দেশজোড়া আন্দোলনের অভিমুখ ঘোরাতেই কি জেএনইউ-তে এই কান্ড ঘটানো হল?

জেএনইউয়ের ঘটনার জেরে গোটা দেশ উত্তাল। বৃহস্পতিবারও পথে নেমে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন ওই বিশ্ববিদ্যালের পড়ুয়ারা এবং অধ্যাপক অধ্যাপিকারা। দেশের সুশীল সমাজ পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। পথে হেঁটেছেন। এইরকম একটা টাটকা ইস্যুতে যখন বেকায়দায় বিজেপি তখন ফের বিতর্কিত মন্তব্য দিলীপ ঘোষের গলায়। তিনি সংবাদমাধ্যমকে ওই ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, ঐশী ঘোষ-এর মাথায় কোনও রক্তের দাগ ছিল না। লাল রঙ মাখিয়ে রেখেছিল।

২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনে এ রাজ্যের একটা বড় সংখ্যক মানুষ তৃণমূলের বিরুদ্ধে ভোট দান করেন। তৃণমূল কংগ্রেসের বিকল্প হিসাবে তারা বেছে নেন বিজেপিকে। রাজ্যের ৪২টি লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে ১৮টি-তে পদ্ম শিবির জয়ী হয়। বিজেপির এই সাফল্যে অনেকেই বলতে শুরু করেন ২০২১-এ এবার বাংলায় পালা বদলের পালা।

রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের অনেকেরই প্রশ্ন, বাংলার মানুষ যদি সত্যিই পালাবদল করার চিন্তাভাবনা করে থাকেন তবে কার প্রতি আস্থা রেখে সেই পালাবদল ঘটাবেন। বিরোধী শিবিরের নেতা কে হবেন? রাজ্য বিজেপির অনেকের চোখে স্বপ্ন ২০২১-এর বিধানসভা ভোটের পর নবান্নের কুরশি তাঁদের দখলে যাবে। তবে সদ্য সমাপ্ত খড়গপুর, কালিয়াগঞ্জ এবং করিমপুরের উপনির্বাচনের ফলাফলের পর তাঁদের সেই স্বপ্নের সামনে এখন বড় প্রশ্ন চিহ্ন।

মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানেই মানুষের আস্থা কেন বিপরীতমুখী? দিলীপবাবু একের পর এক যে সব মন্তব্য করে চলেছেন তা কি আদৌ বাংলার মানুষ ভালো মনে নিচ্ছেন? তাঁর এই ধরনের মন্তব্যের পিছনে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সমর্থন রয়েছে? তাঁর এই ধরনের মন্তব্য আদতে কাদের সুবিধা করে দিচ্ছে বাংলার রাজনীতিতে?

সাম্প্রতিক দিলীপ ঘোষের একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্যের পর এরকম অনেক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে গেরুয়া শিবিরের নিচু তলা থেকে। দিলীপবাবু এধরনের বিতর্কিত এবং কুরুচিকর মন্তব্য করে তৃণমূলের হাতকে শক্তিশালী করছেন না তো? এ ধরনের মন্তব্যের পিছনে কোনও অভিসন্ধি নেই তো তাঁর? উঠছে এমন অনেক প্রশ্ন! অভিযোগ উঠেছে খোদ নিজেদের শিবির থেকেই। দিলীপবাবু কি জেনেবুঝে এমন মন্তব্য করছেন না আলটপকা? সময়ই এর জবাব দেবে।

ক্লিক করে পড়ুন ‘সাতসকাল’ ই-খবরের কাগজ

The post satsakal 08-05-2021 appeared first on satsakal.com.