ধরনায় মমতা, প্রশ্ন উঠছে প্ররোচনামূলক মন্তব্যের জন্য দিলীপ-সায়ন্তনকে ব্যান করা হবে না কেন?

সোমনাথ আদক (কলকাতা): বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের মধ্যেই বেনজির ঘটনার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভায় নির্বাচন কমিশনের জারি করা নিষেধাজ্ঞা। কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আজ ধরনায় বসেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকালই ট্যুইট করে ধরনায় বসার কথা নিজেই জানিয়েছিলেন তিনি। টুইটে তৃণমূল নেত্রী বলেছিলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আমি বেলা ১২টা থেকে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে ধরনায় বসছি।’

নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, সোমবার রাত আটটা থেকে মঙ্গলবার রাত আটটা পর্যন্ত তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও প্রচার করতে পারবেন না। কমিশনের এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পরই তৃণমূলের অনেক প্রথমসারির নেতা-নেত্রীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ক্ষোভে ফেটে পড়েন তৃণমূলের কর্মী ও সমর্থকরা। তাঁদের অনেকেরই দাবি, কমিশনের এই ধরনের অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক সিদ্ধান্ত তাঁরা মেনে নিতে পারছেন না।

কমিশনের তরফে অভিযোগ জানানো হয়েছে, গত ৩ এপ্রিল তারকেশ্বরের জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কমিশন নোটিশ পাঠিয়েছিল। নেটিশের প্রেক্ষিতে মমতা যে জবাব দিয়েছিলেন তা কমিশনকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। তাঁদের বক্তব্য, ভাষণের মূল অংশটি উল্লেখ করেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কমিশনের পাঠানো নোটিশের উত্তরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘ধর্মীয় লাইনে ভোটারদের প্রভাবিত করতে চাইনি। সম্প্রীতির কথাই বলেছি। আমি হিন্দু ভাই–বোনেদের বলেছি, হিন্দু, মুসলিম বিভাজন করবেন না। ধর্মীয় উস্কানি দিতে চাইনি।’

অন্যদিকে এই ঘটনার পরেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে মমতাকে ২৪ ঘন্টার জন্য ব্যান করা হলে প্ররোচনামূলক মন্তব্যের জন্য দিলীপ ঘোষ, সায়ন্তন বসুকে কেন ব্যান করা হবে না।

উল্লেখ্য, কোচবিহারের শীতলকুচি কান্ডের পর দিলীপ ঘোষ বরানগরে পার্ণ মিত্রর প্রচার করতে গিয়ে সভায় বলেন, বারাবার করলে আরও শীতলকুচি হবে। অন্যদিকে সায়ন্তন বসু বাহিনীকে বুক লক্ষ্য করে গুলি করার নির্দেশ দেন। সেই ভিডিও ভাইরাল হতেই রীতিমতো সোরগোল পড়ে যায় রাজ্য-রাজনীতিতে।

ক্লিক করে পড়ুন ‘সাতসকাল’ ই-খবরের কাগজ

The post satsakal 06-05-2021 appeared first on satsakal.com.