তৃণমূলকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই কি দিলীপ ঘোষের মেয়াদ বাড়াল কেন্দ্র?

গেরুয়া শিবিরের একাংশ চেয়েছিল সভাপতি পদে বদল আসুক

বিকাশ ঘোষ: তৃণমূলকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই কি দিলীপ ঘোষের মেয়াদ বাড়াল কেন্দ্র? আরও ৩ বছর উত্তর কলকাতার ৬ নম্বর মুরলীধর সেন লেনের ওই গেরুয়া বাড়ির মালিক তিনিই। আর দ্বিতীয়বারের জন্য কুর্সিতে বসার পরপরই তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন আগের থেকে তিনি আরও ঝাঁঝালো। অন্যরা কে কি ভাবলো তাতে তাঁর কিছুই যায় আসে না। নিজেকে কখনও কখনও ‘বাপের ব্যাটা’ বলেও আখ্যায়িত করে থাকেন স্বগর্বে।

এই যেমন বাংলার বুদ্ধিজীবীদের লক্ষ্য করে তিনি মন্তব্য করলেন, “ওদের মা-বাবার ঠিক নেই। তাই তারা কাগজ দেখাবেন না বলে শোরগোল তুলেছেন। আমাদের কাগজ দেখাতে কোনও ভয় নেই। কারণ আমাদের মা-বাবা ঠিক আছে।”

তিনি আর কেউ নন, বঙ্গ রাজনীতির অন্যতম বিতর্কিত চরিত্র দিলীপ ঘোষ। যিনি কুকথায় অভ্যস্ত প্রতিনিয়ত। ভাষার শালীনতা বলে যাঁর বক্তব্যে কোনও ব্যাকরণ নেই। এমনকী এ ধরনের কুকথা এবং কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা বলেও তিনি যেন নিজেকে গৌরাম্বিত বলে মনে করেন!

তিনিই হুমকির সুরে বলতে পারেন বিরোধীদের গুলি করে মারার কথা। আবার তিনিই হুংকার দিয়ে রোগীসহ অ্যাম্বুলেন্সকে অন্য পথে ঘুরে যাওয়ার নিদান দিতে পারেন।

আরও পড়ুন: আবারও তিন বছরের জন্য রাজ্য সভাপতি পদে দিলীপ ঘোষ

অবশ্য দিলীপ ঘোষ এধরনের মন্তব্য এবং কথা বলে হয়তো নিজেকে ‘শায়েনসা’ ভাবতে পারেন কিন্তু বাংলার জনগণ কখনওই এ ধরনের মন্তব্যকে ‘সেন্সর’ করে না। শ্রীচৈতন্যের মাটি এই বঙ্গভূমি। রবীন্দ্র-নজরুল-বিবেকানন্দের মাটি এই বাংলা। যে বাংলা সহনশীলতার কথা বলে, যে বঙ্গ-সংস্কৃতি গোটা দেশের শিক্ষা-দীক্ষার অগ্রগতি ঘটায় সেই বাংলার একজন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার মুখে এ ধরনের ভাষণ সংস্কৃতবান বাঙালি কখনওই মান্যতা দেয় না। বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে যার প্রতিফলন ঘটেছে বারংবার। বামফ্রন্ট আমলের দোর্দণ্ডপ্রতাপ সিপিএম নেতাদের সেইসব হুঙ্কারবান নেতাদের শিক্ষা দিয়েছে বঙ্গের জনগণ। বর্তমান শাসক দল তৃণমূলের এমন ‘মাতব্বর’ নেতাদেরও গত লোকসভা ভোটের ফলাফলে বুঝিয়ে দিয়েছেন মানুষ। দিলীপবাবু কি দেওয়াল লিখন পড়তে পারছেন না?

দিলীপ ঘোষ মানেই বিতর্ক, দিলীপ ঘোষ মানেই কুকথা। কখনও তার প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হুংকার কখনও বুদ্ধিজীবীদের লক্ষ্য করে। এত কিছুর পরেও আগামী তিন বছরের জন্য ফের তাঁকেই রাজ্য সভাপতি পদে রাখা হল। সিলমোহর মিলল কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফ থেকে। আসলে কীসের ইঙ্গিত? বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এহেন ভূমিকা মোটেই পছন্দ নয় গেরুয়া শিবিরের একটা অংশের। যাঁরা মনে প্রাণে চেয়েছিল অন্তত রাজ্য সভাপতি পদে এবার বদল আসুক। এই অংশের সমর্থকদের অনেকেই অন্যরকম রাজনৈতিক গন্ধ পাচ্ছেন। তৃণমূলের সঙ্গে গোপন আঁতাত গড়ে ওঠেনি তো বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের। দিলীপ ঘোষকে সামনে রেখে তৃণমূলকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কৌশল নয় তো? দিলীপ ঘোষ বিরোধী শিবিরের এক নেতা নাম গোপন রাখার শর্তে  বলেন, বাংলার মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসের বিকল্প হিসেবে বিজেপিকে মনেপ্রাণে চাইলেও দিল্লির ম্যানেজাররা তা চান না। তৃণমূল বাংলার মাটিতে কীভাবে সুবিধা আদায় করে নিতে পারে সেটাই চাইছেন তাঁরা। আর তা নিশ্চিত করতেই দিলীপ ঘোষের মতো এ ধরনের একজন কুরুচিপূর্ণ ভাষার নেতাকে ওই পদে ফের বসানো হল।

অবশ্য ওই অংশের মতকে মান্যতা দিতে রাজি নয় দিলীপ ঘোষ শিবিরের একাধিক নেতা। শাসক দলের হাতে অত্যাচারিত মানুষের মুখের ভাষা দিলীপবাবু স্পষ্ট করে বলার সাহস রাখেন।

তবে যে যাই বলুন বাংলার মানুষ আসলে কি চান তা বোঝা যাবে আগামী নির্বাচনের ফলাফলে। এবছরে কলকাতা সহ রাজ্যের একাধিক পুরসভার নির্বাচন। আগামী বছর বিধানসভা ভোট। বাংলার জনতা জনার্দন জবাব দেবেন তাদের কি পছন্দ কিংবা কি অপছন্দ। তৃণমূলকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই কি দিলীপ ঘোষের মেয়াদ বাড়াল কেন্দ্র?

ক্লিক করে পড়ুন ‘সাতসকাল’ ই-খবরের কাগজ

The post satsakal 12-05-2021 appeared first on satsakal.com.