তিনিই উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেসের মুখ, ইঙ্গিত প্রিয়াঙ্কার

শর্মিলা চন্দে

উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী মুখ কে, সেই নিয়ে রাজনতৈক মহলে জল্পনা চলছিল। শুক্রবার উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনের ইস্তেহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রিয়াঙ্কা এই জল্পনার ভিত্তিতে বড়সড় ইঙ্গিত দিলেন। তিনিই পার্টির মুখ এ রাজ্যে। কিন্তু ভোটে লড়বেন কি না তা নিয়ে জল্পনা জিইয়ে রাখলেন কংগ্রেস নেত্রী। যোগী আদিত্যনাথ এবং অখিলেশ যাদব যেখানে নির্বাচনে লড়ার কথা ঘোষণা করলেও প্রিয়াঙ্কার তরফে এখনও কোনও ইঙ্গিত আসেনি।

এদিন ইস্তেহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রিয়াঙ্কার দিকে প্রশ্ন আসে, উত্তরপ্রদেশে দলের মুখ কে। তাতে প্রিয়াঙ্কার উত্তর, “আপনাদের কি অন্য কারও মুখ নজরে আসছে কংগ্রেসের তরফে? তাহলে…সব জায়গায় আমার চেহারা দেখতে পাচ্ছেন তো!” কিন্তু ভোটে লড়বেন কি প্রিয়াঙ্কা? তার উত্তরে কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, “যখন সেটা ঠিক হবে আপনারা জানতে পারবেন। এখনও আমরা কোনও সিদ্ধান্ত নিই-নি।”

উল্লেখ্য, উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেসের দায়িত্বে রয়েছেন প্রিয়াঙ্কা। এদিন প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে কংগ্রেসের ইস্তেহার প্রকাশ করেন রাহুল গান্ধি। সাংবাদিকদের সামনে তাঁরা প্রকাশ করেন, ‘যুব ইস্তেহার, ক্ষমতায় এলে উত্তরপ্রদেশে যুবদের জন্য কর্মসংস্থানের রণনীতি।’

কংগ্রেস কি কারও সঙ্গে ভোটপরবর্তী জোট করবে যদি ত্রিশঙ্কু বিধানসভা হয়, তাতে প্রিয়াঙ্কা বলেছেন, “এরকম পরিস্থিতি তৈরি হলে আমরা আমাদের নীতি নারী-যুবদের জন্য প্রতিশ্রুতি রক্ষার কথাতেই থাকব। তাতে যাঁদের সঙ্গে থাকার তা করব। সেক্ষেত্রে সবরকম সমঝোতার রাস্তায় হাঁটব।”

রাহুল বলেছেন, “আমরা বলছি না ১০ লাখ, ২০ লাখ বা ৪০ লাখ চাকরি দেব। আমরা বলছি আমরা নীতি তৈরি করেছি চাকরি দেওয়ার জন্য। উত্তরপ্রদেশে প্রতিদিন গড়ে ৮৮০ জন চাকরি হারান। গত পাঁচ বছরে বিজেপির শাসনকালে ১৬ লক্ষ মানুষ কাজ হারিয়েছেন। মনে রাখবেন, প্রধানমন্ত্রী বছরে ২ কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।”

রাহুলের দাবি, “ভারতকে নতুন দিশা দেখাতে পারে একমাত্র কংগ্রেস। ছোট দলগুলি সেটা করতে পারবে না। আর বিজেপির দিশা দেশের দিশা নয়। ভারতের দরকার নতুন দিশা। ২০১৪ সালে বিজেপি যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা ব্যর্থ হয়েছে। এটা বিপর্যয়। ভারতকে আগে যাওয়ার জন্য নতুন দিশার প্রয়োজন। যদি ভারতকে নতুন দিশা দেখাতে হয় তাহলে তা উত্তরপ্রদেশ থেকে শুরু করতে হবে। প্রত্যেক রাজ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু উত্তরপ্রদেশের মতো ভার অন্য রাজ্যের নেই। তাই আমরা উত্তরপ্রদেশের জন্য নতুন চিন্তাভাবনা করছি।”

প্রিয়াঙ্কা বলেছেন, “কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে রাজ্যে ২০ লক্ষ সরকারি চাকরি দেবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানে শূন্যপদ পূরণ হবে। প্রাথমিক স্কুলে দেড় লক্ষ খালি পদ রয়েছে। ৩৮ হাজার পদ রয়েছে মাধ্যমিক স্তরের স্কুলে। ৮ হাজার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। সেগুলি পূরণ করা হবে। ৬ হাজার চিকিৎসকের পদ খালি, পুলিশে এক লক্ষ পদ খালি, ২০ হাজার অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর পদ খালি, ২৭ হাজার সহায়কের পদ খালি, সংস্কৃত কলেজে ২ হাজার শিক্ষক নিয়োগ হবে। ৩২ হাজার শারীরশিক্ষা শিক্ষক এবং ৪ হাজার উর্দু শিক্ষক নিয়োগ করা হবে।” তবে প্রিয়াঙ্কা ভোটে লড়বেন কিনা এই নিয়েই এখন জল্পনা চলছে রাজনৈতিক মহলে।


টাচ করুন, দেখুন আপনার প্রিয় অভিনেত্রীদের অসংখ্য ফটো