অপারেশন করে ভারসাম্যহীন যুবকের মলদ্বার থেকে বের হলো প্লাস্টিকের কলম

শুভ চক্রবর্তী (পশ্চিম মেদিনীপুর): মাঝেমধ্যেই মলদ্বার থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হতো সুদিপের। মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ার কারণে মুখ ফুটে বলতেও পারতো না সুদীপ মঠ নামের বছর আঠারোর ছেলেটি বাড়ির লোকেদের। হঠাৎ একদিন বাড়ির লোকজনের চোখে পড়ে ঘটনাটি তারপরেই পরিবারের লোকজন শুরু করে চিকিৎসা। কলকাতা থেকে ভুবনেশ্বর বহু হাসপাতাল মোড় ডাক্তারবাবুর দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে ও সুরাহা হয়নি কোথাও। শেষমেষ সুদীপকে ভর্তি করানো হয় মেদিনীপুর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে মলাশয় আটকে থাকা একটি প্লাস্টিকের কলম দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার জটিল অপারেশনের পর ভারসাম্যহীন যুবকের মলদ্বার থেকে বের করা হলো।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায় পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং-এর বাসিন্দা পেশা খেলনা ব্যবসায়ী মুকুন্দ মঠের ছেলে সুদীপ মঠের তলপেটে ও মলদ্বারে অজস্র যন্ত্রণার কথা পরিবার জানতে পারেন। যন্ত্রণার পাশাপাশি মলদ্বার থেকে শুরু হয় রক্তক্ষরণ। পরিবারের লোকেরা প্রথমে তাদের ছেলেকে সবং গ্রামীণ হাসপাতাল পরে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেও কোনো সুচিকিৎসা না পেয়ে কটকের এক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান কিন্তু সেখান থেকেও ফিরে আসতে হয় নিরাশ হয়ে। অবশেষে মেদিনীপুর শহরের গ্লোকাল হাসপাতাল নামে এক বেসরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে ছেলেকে।

সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সার্জেন্ট তথা প্রসূতি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আশিস মণ্ডল ও ডাক্তার দীপক দাস সহ কয়েকজন চিকিৎসক দলের জটিল অস্ত্রোপচার এর পর সুদীপের মলদ্বার থেকে বের করে আনা হয় আস্ত একটি পেন। বর্তমানে সুদীপ স্থিতিশীল রয়েছে।


টাচ করুন, দেখুন আপনার প্রিয় অভিনেত্রীদের অসংখ্য ফটো