হাড়িভাঙ্গায় উপপ্রধানের বাড়িতে আগুন লাগানোর অভিযোগ

মনিরুল হক (কোচবিহার): প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা নিয়ে আসায় উপ প্রধানের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল সদ্য দায়িত্ব পাওয়া কোচবিহার ১ নম্বর ব্লকের হাড়িভাঙ্গা অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে। আজ ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোচবিহার কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন হাড়িভাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মুক্তি বর্মণের দেওর মানিক বর্মণ।

তিনি অভিযোগ করে জানিয়েছেন, তৃণমূলের বর্তমান অঞ্চল সভাপতি শমসের আলির নামে স্লোগান দিয়ে মোটর সাইকেলে করে একদল দুষ্কৃতি সন্ধ্যা থেকে তাঁদের আটারোনালার বাড়ির সামনে হুমকি দিতে থাকে। পরে মধ্য রাতে গোয়াল ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। বৃষ্টি থাকায় ওই আগুন ছড়াতে পারেনি ঠিকই, তবে গোয়ালঘর পুড়ে গিয়েছে, অগ্নিদগ্ধ হয়েছে একটি গরুও। এই অবস্থায় দুষ্কৃতিদের খুঁজে বের করে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন হারিভাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মুক্তি বর্মণের দেওর।

ওই ঘটনার সময় মুক্তি বর্মণ বাড়িতে ছিলেন না। তিনি এদিন অজ্ঞাতবাস থেকেই মোবাইলে জানিয়েছেন, মূলত প্রধান পদত্যাগ করায় স্বাভাবিকভাবেই উপপ্রধান গ্রাম পঞ্চায়েতের দায়িত্ব সামলাবেন। আর সেটা শমসের আলী করতে দেবে না। সেই কারণেই তাঁর বাড়িতে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে ভয় দেখাতে চাইছেন বলে মুক্তিদেবীর অভিযোগ।

গতকালই হাড়িভাঙ্গা পঞ্চায়েতে প্রধানের বিরুদ্ধে পঞ্চায়েত সদস্যদের নিয়ে অনাস্থার ভোটাভুটির জন্য তলবি সভা ডাকা হয়েছিল। দলের জেলা নেতৃত্ব ওই অনাস্থার বিরুদ্ধে গেলেও দলের প্রাক্তন অঞ্চল সভাপতির নেতৃত্বে পঞ্চায়েত সদস্যরা তলবি সভায় যোগ দিতে অঞ্চল অফিসে পৌছায়। পরে প্রধান তাঁর পদ থেকে পদত্যাগ করলে তলবি সভা বাতিল হয়ে যায়। ওই ঘটনার জেরে দলের জেলা নেতৃত্বের সমস্ত ক্ষোভ গিয়ে পড়ে অঞ্চল সভাপতির উপড়ে। তাঁকে গতকালকেই পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে শমসের আলিকে অঞ্চল সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। আর তারপরেই গতকাল রাতে ওই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। এদিকে এই ঘটনা নিয়ে সদ্য দায়িত্ব প্রাপ্ত অঞ্চল সভাপতি শমসের আলিকে বারবার মোবাইলে চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়।