ডাক্তারি সহ নানা হেলথ কোর্স পড়ানোর নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণা

তারক হরি (পশ্চিম মেদিনীপুর): করোনা পরিস্থিতিতে মানুষ এমনিতেই দিশেহারা। দেশের সাথে রাজ্য জুড়ে চলছে মৃত্যুর মিছিল। সেই সময় কতিপয় কিছু মানুষ লোক ঠকানো কাজে ব্যস্ত!

ছেলেকে ডাক্তার করতে চান? ফিলিপিনস থেকে এমবিবিএস করিয়ে দেওয়া হবে। কিংবা ব্যাঙ্গালুরুর কোনও মেডিকেল কলেজ থেকে বিএসসি নার্সিং, জি এন এম অথবা বি ফার্ম, ডি ফার্ম, মেল নার্সিং একেবারে হাতের মুঠোয়! এমনই চমকপ্রদ বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পা দিয়ে আজ সর্বস্বান্ত বহু ছাত্র-ছাত্রী। লক্ষ লক্ষ টাকা জালিয়াতি করে আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠল এক সংস্থার বিরুদ্ধে।

সূত্রের খবর, Plan Edu Consultant Learning Solution Pvt. Ltd নামিত একটি সংস্থা গত ২০১৯ সাল থেকে এমবিবিএস, বিএসসিনার্সিং, বি ফার্ম, ডি ফার্ম দেশ-বিদেশে নামী ইনস্টিটিউট থেকে পড়ানোর নাম করে ছাত্র-ছাত্রী ও তাঁদের অভিভাবকদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলার অভিযোগ আসছিল ওই সংস্থার বিরুদ্ধে।

এই সংস্থার অফিস কেবলমাত্র ময়নাতেই নয়, পিংলা, সবং ছাড়াও দুই মেদিনীপুর সহ একাধিক জেলাতেই এই প্রতারণা চক্রের শাখা অবাধেই গজিয়ে উঠেছিল।

২০১৯ সালে ময়নার বলাইপণ্ডা বাজারে একটি অফিস খুলে উচ্চমাধ্যমিক পাশ ছাত্র-ছাত্রীদের ডাক্তারি কোর্স পড়ানোর নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা তুলছিল সংস্থা। অথচ সেই ছেলে মেয়েদের হোস্টেল খাবার বন্ধ, পরীক্ষা দেওয়া বন্ধ, কারণ অভিভাবকদের কাছে টাকা তুললেও আদতে টাকা জমাই পড়েনি ভর্তি হওয়া সেই কলেজগুলিতে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় বিভিন্ন জেলায় ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকেরা একত্রিত হয়ে ঘেরাও করে ময়নার ওই অফিসে। ওই সেন্টারে কর্মরত সেন্টার চার্জ এর দায়িত্বে থাকা কৃষ্ণা পড়িয়া নামে এক মহিলাকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তাঁরা।

জানা যায়, ময়নার কাঁচিচকের বাসিন্দা কৃষ্ণাই ফোন করে ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের প্রলুব্ধ করত বিভিন্ন কলেজে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার জন্য। এরপর পরিস্থিতি জটিল হলে খবর যায় ময়না থানায়। পুলিশ এসে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই মহিলাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

এরপর শনিবার ময়না থানায় প্রায় ৪০ জন অভিভাবক ও ছাত্রছাত্রীরা উপস্থিত হলে খোঁজ পড়ে সংস্থার মালিকের! কিন্তু থানায় ডেকে পাঠানো সত্বেও সংস্থার মালিক পাঁশকুড়ার কাসাবারের বাসিন্দা নব কুমার পালের কোনও হাদিশই মেলেনি!

এমনই ফাঁদে পা পড়ে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পিংলার সাহড়দার বাসিন্দা, নকুল সাহু নিজের শেষ সম্বল পি এফ এর ১৫লক্ষ টাকা তুলে দিয়েছিল ছেলেকে ডাক্তারি পড়ানোর আশায়। নকুল বাবু জানান, ” ছেলে ইন্দ্রজিৎ কে এমবিবিএস পড়ানোর ৩২ লাখ এর প্যাকেজের ১৫ লক্ষ দিয়েছেন, কিন্তু ইন্দ্রজিৎ এখন ফিলিপিন্সের বদলে বেঙ্গালুরুর এক অখ্যাত কলেজে কোর্স করছে, তাও নিজের পঞ্চাশ হাজার টাকা খরচ করে। ”

এ দলে শুধু ইন্দ্রজিৎ নয়, পিংলা সবং ময়না সহ বিভিন্ন জেলার এরকম অজস্র ছাত্রছাত্রীরা আজ প্রতারণার শিকার। যার মধ্যে সবং এর মৌসুমী মন্ডল, নারাঙ্গা দিঘির কেয়া দাস, দক্ষিণ ময়নার সুশান্ত বেরা, আনন্দপুর এর সায়ন জানা, বাকচার তনুশ্রী মন্ডল, বাঁকি গ্রামের দীপ্তিমা সামন্ত সহ প্রায় ৪০-৫০জন। তাঁরা জীবনের শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে ডুবে গেছে অনিশ্চিত ভবিষ্যতে!

গত বছর ২০২০ সালে ময়না থানার পার্শ্ববর্তী পিংলা থানা তে এই সংস্থার নামে একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের হয়েছিল। কিন্তু বিচার মেলেনি।

অভিভাবকেরা টাকা ফেরত চেয়ে সুবিচারের আশায় আজ প্রশাসনের শরণাপন্ন। আর অন্য দিকে এভাবেই বছরের পর বছর আর্থিক প্রতারণায় খুন হচ্ছে সমাজের উজ্জ্বল ভবিষ্যত! এর দায় কে নেবে?

ক্লিক করে পড়ুন ‘সাতসকাল’ ই-খবরের কাগজ

The post satsakal 01-08-2021 appeared first on satsakal.com.