চির বিদায় নিলেন গরীবের ভগবান ডঃ খগেন্দ্রনাথ

তারক হরি, পশ্চিম মেদিনীপুর
ডঃ খগেন্দ্রনাথ খামরুই! মেদিনীপুর বাসীর কাছে সাক্ষাৎ ‘ধন্বন্তরি’, আবার কারুর কাছে ‘মেদিনীপুরের বিধান রায়’! আর, সকলের কাছেই “গরীবের ভগবান”। একজন স্বনামধন্য চিকিৎসক হিসেবেই সারা জীবন দায়িত্ব পালন করে গেছেন। শুধুমাত্র মেদিনীপুরবাসীকে সেবা করার আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন জীবনভর! চলে গে‌লেন চিকিৎসক খগেন্দ্রনাথ খামরুই। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সামান্য অসুস্থ বোধ করছিলেন। ফলে করোনা পরীক্ষাও করেন। গতকালই করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। রাতে শ্বাষকষ্ট হলে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর।
চিকিৎসক খগেন্দ্রনাথ খামরুইকে ধন্বন্তরী বলা হত। কারণ, বহু নাম করা হাসপাতাল থেকে ফিরে আসা রোগীও তাঁর কাছে সুস্থ হয়ে উঠতেন কোনও এক জাদুকাঠির ছোঁয়ায়। তাঁকে মেদিনীপুরের মহৌষধীও বলা হত। কারণ, তিনি না থাকলে মেদিনীপুর শহরের বহু গরিব মানুষকে হয়তো বিনা চিকিৎসাতেই মরতে হত। শুধু কী গরিব মানুষ? সব স্তরের মানুষই ছিলেন তাঁর রোগী। খামরুইয়ের মিক্সচার খাননি, মেদিনীপুর শহরে এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া বিরল।
তিনি যেখানে রোগী দেখতেন, তার চারপাশে থিকথিক করত রোগীদের ভিড়। কিন্তু ডাক্তারবাবুকে কখনও কেউ বিরক্ত হতে দেখেননি। রোগীর নাড়ি টেপার পর রোগের কাহিনী শুনতে শুনতে খসখস করে লিখে দিতেন ওষুধ। তারপর তাঁর পাশের করিডরে সেই সাদা কাগজে লেখা প্রেসক্রিপশন দেখালেই মিলত প্রয়োজনীয় বড়ি, সঙ্গে অবশ্যই মিক্সচার। সকলে বলতেন, যত কাজ নাকি ওই মিক্সচারেই।
খগেন্দ্রনাথবাবুর আদি বাড়ি শালবনি থানা এলাকার চৈতাতে। তিনি মেদিনীপুর শহরে বসবাস করলেও নিজের গ্রামকে কখনওই ভোলেননি। গ্রামের গরিব মানুষের চিকিৎসা থেকে পড়াশোনা সব ক্ষেত্রেই পাশে দাঁড়িয়েছেন। সেই উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন ঘটলো!
বৃহস্পতিবার রাত্রি ১১ টা ৫০ মিনিট নাগাদ তিনি চলে গেলেন না ফেরার দেশে! শুক্রবার মেদিনীপুর শহরের পদ্মাবতী মহাশ্মশান ঘাটে মেদিনীপুরের এই মহান চিকিৎসকের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। এমন এক গুণী মানুষের প্রয়াণে শোকে মুহ্যমান মেদিনীপুরবাসী!

টাচ করুন, দেখুন আপনার প্রিয় অভিনেত্রীদের অসংখ্য ফটো