হাসপাতাল মৃত ঘোষণা করার পরেও শরীরে প্রাণ রয়েছে বলে দাবি মৃতার পরিবারের

তনুজ জৈন (মালদা): অদ্ভুত ঘটনা! হাসপাতালের তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় রোগীর মৃত্যু হয়েছে। মৃতদেহ তুলে দেওয়া হয় পরিবারের হাতে। কিন্তু দেহ বাড়ি নিয়ে যাওয়ার পর পরিবারের লোকের দাবি তারা বুঝতে পারে রোগীর দেহে প্রাণ আছে। আর তারপরেই রোগীর আত্মীয়রা হাসপাতালে এসে বিক্ষোভ করে। যদিও চিকিৎসকরা জানান সম্পূর্ণটাই গুজব। ওই রোগীর মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। জীবীত রোগীকে মৃত বলেছেন চিকিৎসক। এমনই অভিযোগ তুলে ফের রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে বিক্ষোভ দেখালেন রোগীর আত্মীয় ও বাসিন্দাদের একাংশ। মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে মঙ্গলবার দুপুরে ওই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। চিকিৎসকের গাফিলতি রয়েছে বলে অভিযোগ তুলে ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের একাংশ হাসপাতালে ভাঙচুর চালাতে উদ্যত হন। খবর পেয়েই হাসপাতালে ছুটে যায় পুলিশ। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসে। গাফিলতির অভিযোগ অবশ্য মানতে চাননি হাসপাতাল কতৃপক্ষ। ওই রোগী স্ট্রোকে মারা গিয়েছিলেন বলে হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে।

হাসপাতাল, পুলিশ ও রোগীর পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন বাড়িতেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন মসজিদ পাড়ার বাসিন্দা নাসিমা বিবি(৩৪)। চেতনাহীন অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন পরিবারের লোকজন। সেখানে তার ইসিজি করা হয়। এছাড়া নানা পরীক্ষার পর নাসিমা মৃত বলে হাসপাতালের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়। হাসপাতালে কারও মৃত্যু হলে চারঘন্টা রাখার কথা। কিন্তু তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়ার পর বাড়িতে নিয়ে যান পরিবারের লোকজন। রোগীর আত্মীয় ও স্থানীয়দের কয়েকজন অনুরোধ করায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে। কিন্তু বাড়িতে ফিরে ওই বধূর শরীরে প্রাণ রয়েছে বলে দাবি করেন পরিবারের লোকজন। তার মুখে জল দেওয়া হলে তিনি তাও খেয়েছেন বলে পরিবারের দাবি। এরপর তারা বধূকে নিয়ে ফের হাসপাতালে যান। জীবীত কাউকে মৃত বলা হয়েছে, এমন গুজব ছড়াতেই রোগীর আত্মীয়দের পাশাপাশি স্থানীয়দের অনেকেই হাসপাতালে জড়ো হন। তারপরেই উত্তেজনা ছড়ায়। শুরু হয় বিক্ষোভ। ভাঙচুর চালাতে উদ্যত হন বিক্ষোভকারীদের একাংশ। যদিও পরীক্ষার পর বধূর মৃত্যুই হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন। তারপরেই দেহটি ময়নাতদন্তে মালদহে পাঠায় পুলিশ।

চিকিৎসকদের সূত্রে জানা গিয়েছে, কারও মৃত্যু হলে তাকে হাসপাতালে চারঘন্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। ওই সময় হাত-পায়ের পেশীতে টান ধরতে থাকে। ফলে শরীরের কোনও অংশ নড়াচড়া করছে বলেও মনে হতে পারে। এক্ষেত্রে তেমনটাই হয়েছে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।

হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকের বিএমওএইচ অমলকৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, বধূর স্ট্রোকে মৃত্যু হয়েছিল। তিনি বেঁচে রয়েছেন বলে যে দাবি করা হচ্ছে তা গুজব ছাড়া কিছু নয়।

হরিশ্চন্দ্রপুরের আইসি সঞ্জয়কুমার দাস বলেন, জীবীত রোগীকে মৃত বলা হয়েছে এমনই অভিযোগে হাসপাতালে উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসে।

গ্রাম্য এলাকায় মাঝে মাঝেই এই ধরনের বিভিন্ন গুজবের জের গিয়ে পড়ে হাসপাতালে চিকিৎসক নার্স দের উপর। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল নির্দিষ্ট সময় হওয়ার পরেই মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া। তাহলে হয়তো এই ধরনের গুজব ছড়াতো না।


টাচ করুন, দেখুন আপনার প্রিয় অভিনেত্রীদের অসংখ্য ফটো