ডাবলিনের খাদ্যরসিক স্যামি

যে মানুষটি ভ্রমণবিলাসী সে শুধু ঘোরার জায়গাই খুঁজে বেড়ায় না। সঙ্গে সঙ্গে কোথাকার কোন খাবার বিখ্যাত, তার কী বিশেষত্ব সেসবও খুঁজে বেড়ায়। নানা জায়গার খাবার চেখে না দেখলে তাদের ভ্রমণ বৃথা। অনেকের আবার এই নিয়ে এত মাথা ব্যাথা থাকে যে তারা গুগলে খোঁজখবর নিয়ে প্ল্যান করেই যান যে কোথায় গিয়ে কী দেখবেন আর সঙ্গে কী কী খাবেন। কিন্তু এসব সখ কী শুধু মানুষের? যদি মানুষ হয়ে অহঙ্কার থাকে যে মানুষের ব্রেনটা বিশেষভাবে তৈরি বলেই মানুষের এসব সখ-আহ্লাদের অনুভূতি সকলের থেকে আলাদা। তার যে শৌখিন মন আছে তা আর কারোর নেই। তবে আপনার ভুল ভাঙবে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনের হউথ শহরের এক সিল মাছের কথা শুনলে। নাম তার স্যামি।

সে রোজ সমুদ্রের জল পেরিয়ে, রাস্তা পেরিয়ে উলটো দিকের রেস্তোরাঁয় ঢুঁ মারতে আসে। তারও বোধহয় ওই একঘেয়ে কাচা মাছ রোজ রোজ ভালো লাগে না। তাই রেস্তোরাঁর জিভে জল নানা সব খাবারের গন্ধে সে আর সমুদ্রের জলে থাকতে পারে না। ভারি শরীর নিয়ে থপথপিয়ে বহু কষ্টে অনেক সময় নিয়ে সে রোজ আসে খাবারের খোঁজে। অনেক গঞ্জনাও সইতে হয়। কখনও বা রেস্তোরাঁর মালিকরা চেয়ার নিয়ে তাড়া করেন। পেছনে ঠেলতে ঠেলতে সমুদ্রের জলে ফেরত পাঠান। কিন্তু কোনো কোনো দিন সিল স্যামি নাছোড়বান্দা হয়ে পড়ে। সে কিছুতেই পিছু হটে না। সেদিন কেউ কেউ অনিচ্ছা সত্ত্বেও পেছন ছাড়াতে কাচামাছ ছুঁড়ে দেয়। স্যামির রসনাতৃপ্তি না হলেও তাই নিয়েই সে ভগ্ন হৃদয়ে নিজের ডেরায় ফিরে যায়।

তাও স্যামির খাদ্যরসিক মন কিন্তু তাকে রোজ জল থেকে তুলে রাস্তায় পাঠায়। যে শরীর নিয়ে সে চলাফেরার কথা ভাবতেই পারে না সেই শরীর ঠেলতে ঠেলতে সে খাবার চায়। যতই সকলে বিরক্ত হোক না কেন স্যামি নিজের স্বাদেন্দ্রিয়র কাছে বাঁধা। তার রাস্তা পেরোতে সময় লাগে বলে অনেকক্ষনের ট্রাফিক জ্যামও রোজকার ঘটনা। এতেও অনেক লোকের বিরক্তি সইতে হয়। আবার এতে সুবিধেও আছে। তার থেকে রেহাই পেতে অনেক সময়ে মালিকরা তাড়াতাড়ি তার খাবারের বন্দোবস্ত করে। স্যামির এই শখ কিন্তু যে সে শখ নয়। কারণ তার আবার এসব রেস্তোরাঁর মধ্যে প্রিয়-অপ্রিয় আছে। সি ফুডে নামকরা লাইট হাউস রেস্তোরাঁটি তার সবথেকে প্রিয়। সেখানকার খাবার পেলে স্যামি সবথেকে খুশি। সেটা সে পায়ও। কারণ মালিকরা তাড়ালেও তারাই আবার ভালোও বাসে। তারাও জানে সিলটি রোজ আসবে। সে না আসলে তারাও মনে মনে একটু উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে। তারাই আদর করে সিল মাছটির নাম দিয়েছে স্যামি। স্যামির অদ্ভুত শখ তারাও সবাইকে গল্প করে আনন্দ পায়। স্যামি তাদের কাছে লক্ষ্মী। খাদ্যপ্রেমী স্যামিকে দেখতে তাদের রেস্তোরাঁতে মানুষের ভির বাড়ে। আর তাতে তাদেরও পকেট ভরে।


টাচ করুন, দেখুন আপনার প্রিয় অভিনেত্রীদের অসংখ্য ফটো