প্রথম বিমানে চড়ে খুশি পরিযায়ী শ্রমিকরা

মিডিয়া উইন্ডো ওয়েব ডেস্ক: লকডাউনের ফলে ভিন রাজ্যে আটকে পরা বহু পরিযায়ী শ্রমিক পায়ে হেঁটে বড়ি ফেরার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু প্রশাসনের তরফে পথেই তাদের আটকে দেওয়া হয়েছিল, এমনকি তারা মালবাহী ট্রাকে করে ফেরার চেষ্টা করলেও ব্যার্থ হয়। ফলে চরম সংকটের মধ্যে পরেন মুম্বাইয়ে আটকে থাকা বহু পরিযায়ী শ্রমিক।ঝারখন্ডের রাঁচি থেকে মুম্বাইয়ে কাজ করতে এসে ১৭৭ জন শ্রমিক সেখানেই আটকে যান, ফলে তাঁরা দিশেহারা হয়ে পরেন।বাড়ি ফেরার আশাই যখন প্রায় তাঁরা ত্যাগ করেছিলেন সেই সময় তাঁরা খবর পান কিছু সহৃদয় মানুষ তাঁদের বাড়ি ফেরার জন্য সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। বেঙ্গালুরুর ন্যাশনাল ল স্কুল এর প্রাক্তন এক শিক্ষার্থী মুম্বইয়ে আটকে থাকা ওই পরিযায়ীদের ফেরাতে কিছু অর্থ সংগ্রহ করছিলেন। তখনই একটি এনজিওর তরফ থেকে এয়ার এশিয়ার বিমানে মুম্বাইয়ে আটকে থাকা ১৭৭ জন পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরানোর ব্যাবস্থা করা হয়। যদিও জানা গেছে, ওই এনজিওর পাশাপাশি বিমানটির উড়ানের ব্যয়ে ভর্তুকি দেয় খোদ এয়ার এশিয়া বিমান সংস্থাটিও।
জীবনে প্রথমবার বিমানে চড়লেন ওই শ্রমিকরা। ফলে স্বপ্নেও আকাশে ওড়ার যে স্বপ্ন তাঁরা দেখেননি, লকডাউনের সংকটের সময় সেই ঘটনাই পরে পাওয়া চোদ্দ আনার মতই সত্যি হল তাঁদের ক্ষেত্রে। ফলে আনন্দে আত্মহারা শ্রমিকরা কিছুক্ষণের জন্যে হলেও ভুলে গেলেন তাঁদের এতদিনের জীবনযুদ্ধ। লকডাউনের কারনে সেই মার্চ মাস থেকে আটকে থাকা পেশায় অটো চালক ২২ বছরের কমলেশ্বর বিমানে করে ফিরে এসে তিনি জানান, আইন স্কুলের প্রাক্তনী প্রিয়াঙ্কা রাইয়ের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়, তিনিই তাঁকে বিমানের টিকিটের ব্যবস্থা করে দেন। “এটা আমার প্রথম বিমান যাত্রা”, একথা বলার সময় আনন্দে চোখ চকচক করে ওঠে তাঁর। তিনি আনন্দে আত্মহারা হয়ে বলেন অনেক দিন পর মা, বাবা, ভাই বোন সহ পরিবারের সকলকে দেখতে পাবো।
আবার দর্জি আসলাম আনসারি তাঁর স্ত্রী ও চার সন্তানকে নিয়ে মুম্বইয়ে বেড়াতে গিয়ে আটকে পড়েন। সেই অভিজ্ঞতা ভাগ করতে গিয়ে তিনি বলেন, “যখন লকডাউন শুরু হয়েছিল, তখন মুম্বইয়ে আর আমার কোথাও ঘোরা বাকি ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে আমি আমার পরিবারকে নিয়ে বাড়ি ফিরতে চাইছিলাম। পরে আমি এই এনজিওর সঙ্গে যোগাযোগ করি”।

আরও পড়ুন: দারিদ্র সীমার নিচে বসবাসকারী মানুষদের দশ হাজার টাকা দেওয়ার দাবি কংগ্রেসের

সম্প্রতি মুম্বইয়ে তাঁর চাকরিটি হারিয়ে ঘরে ফেরার পুঁজিটুকুও পাচ্ছিলেন না নির্মাণ শিল্পের সাথে যুক্ত মহেন্দ্র নামে এক পরিযায়ী শ্রমিক, প্রতিদিনের খাবারের জন্যেও লড়াই করে যাচ্ছিলেন তিনি। তিনি জানান, “ হঠাৎ, একদিন, আমি একটি ফোনে জানতে পারি যে আমি বাড়ি ফেরার জন্যে একটি বিমানের টিকিট পাবো। এভাবে বিনা খরচে বিমানে চড়ার সুযোগ পেয়ে আমি কৃতজ্ঞ”, এই কথা বলার সময়েও মহেন্দ্রর চোখমুখ থেকে বিস্ময়ের ঘোর কাটেনি।
অবশেষে বহস্পতিবার ভোরে রাঁচির বিরসা মুণ্ডা বিমানবন্দরে জীবনে প্রথমবার বিমান চরার অভিজ্ঞতা নিয়ে ১৭৭ জন পরিযায়ী শ্রমিক নিজের ঘরে ফিরলেন। এয়ার এশিয়ার যে বিমানে করে মুম্বাই থেকে রাচিতে শ্রমিকরা ফিরলেন সেই বিমান সংস্থাটি এক বিবৃতিতে বলেছেন “আমরা জাতীয় আইন স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রয়েছি, আমরা বুঝতে পেরেছিলাম যে তাঁরা মুম্বই থেকে রাঁচিতে ওই পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরানোর চেষ্টা করছেন। আমরাও তাই স্বেচ্ছায় তাঁদের সেই প্রচেষ্টায় কিছুটা সাহায্য করেছি”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *