তৃণমূল পরিচালিত ক্লাবে দুর্গারূপী মমতার সামনে চলল রাতভর অশ্লীল নাচের জলসা

তনুজ জৈন (মালদা): গণেশ পূজা উপলক্ষে মমতার মূর্তির সামনে তৃণমূল পরিচালিত ক্লাবে করোনা পরিস্থিতিতে শিশুদের সামনেই রাতভর চলল অশ্লীল নৃত্য। বাজানো হলো চটুল গান। একদিকে এদিন সকালেই তৃণমূল পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েতে সন্দেহের বশেই এক পরিযায়ী শ্রমিক কে পিটিয়ে মারার ঘটনা ঘটেছে। পুরুষশূন্য হয়ে গিয়েছে সেই গ্রাম। মর্মান্তিক ঘটনায় কেঁপে উঠেছে হরিশ্চন্দ্রপুর। তার রেশ কাটতে না কাটতেই সন্ধ্যেবেলা থেকে শুরু হল তৃণমূল পরিচালিত জাগরণ সংঘের গণেশ পূজার মমতা ব্যানার্জির মূর্তির সামনে অশালীন গানের তালে তালে চটুল নৃত্য অনুষ্ঠান। চললো রাতভর অশ্লীল পোশাক পরে ডিজের তালে ডান্স। মঞ্চে দেখা গেল কয়েক জন তৃণমূল নেতাকে হাতে সিগারেট হাতে নাচতে। দর্শকাসনে তখন বসে রয়েছেন শিশু থেকে বৃদ্ধ। হরিশ্চন্দ্রপুরের আবাল বৃদ্ধ বনিতা অনুষ্ঠান উপভোগ করতে এসেছিলেন। কারো মুখে দেখা যায়নি মাস্ক। এমনকি ছিল না সামাজিক দূরত্ব বিধি।

এলাকায় প্রশ্ন উঠেছে তৃতীয় ঢেঁউ আসন্ন সেখানে কি করে সামাজিক দূরত্ব বিধি না মেনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করল তারা। তাছাড়া যেখানে যুবক শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার ২৪ ঘণ্টাও কাটেনি। তার মধ্যে কিভাবে এত অমানবিক হতে পারল শাসক দলের নেতৃত্বরা। এদিন হরিশ্চন্দ্রপুর টাউন লাইব্রেরী ময়দানে জাগরণ সংঘের ক্লাব প্রাঙ্গণে গনেশ পূজা উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল ক্লাব কর্তৃপক্ষ। তার সঙ্গে সঙ্গেই চলছিল চটুল গানে হিন্দি গানে অশালীন ডান্স। প্রসঙ্গত এই ক্লাবের গনেশ পূজা তে মমতা ব্যানার্জিকে দূর্গা সাজিয়ে কোলে গণেশ বসিয়ে সংবাদ শিরোনামে এসেছিল এই ক্লাব। আবার এই মমতা ব্যানার্জির মূর্তির সামনে এলাকার এক পরিযায়ী শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যুর দিনে অশালীন নৃত্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিতর্ক কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হল। এই ঘটনাতে নিন্দায় সরব হয়েছে এলাকার বুদ্ধিজীবি মহল থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহল। কটাক্ষ করেছে বিজেপি, কংগ্রেস সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল।

এ প্রসঙ্গে কংগ্রেসের নেতা আবদুস শভান জানান এটা তৃণমূলের অপসংস্কৃতি নমুনা। রাজ্য জুড়ে চলছে। তবে লজ্জার বিষয় এই যে মমতা ব্যানার্জির মূর্তির সামনে এখন এ ধরনের কার্যকলাপ করছে তৃণমূল নেতা-কর্মীরা।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কড়া সমালোচনা করেছেন বিজেপি জেলা সভাপতি গোবিন্দ চন্দ্র মন্ডল তিনি জানান যবে থেকে মমতা ব্যানার্জি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন তবে থেকে পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি একদম পাল্টে। অশ্লীল নাচ-গানে বাঙালি সংস্কৃতি কলুষিত। এর পরিবর্তন হওয়া জরুরী না হলে বাংলা ও বাঙালির ইতিহাস থেকে মুছে যাবে।

এ প্রসঙ্গে হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকের তৃণমূলের সভাপতি মানিক দাস জানান ঘটনার কথা শুনেছি। গতকাল যারা দলকে বদনাম করার জন্য এসব করছে দল এগুলো বরদাস্ত করবে না। এদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করবে দল।