সুন্দরবন থেকে ফুটবলের নতুন প্রজন্ম তৈরির শপথ ভারতের ফুটবল প্রাক্তনীদের

শ‍্যাম বিশ্বাস, উওর ২৪ পরগনা।
একটি শিশুর জন্মানোর পর তাকে মানুষের মতো মানুষ করার জন‍্য পিতা মাতারা তাদের সন্তানদের প্রবেশ করান পাঠ‍্যক্রমে। তারপর শুরু হয় একটা শিশুর জীবনযাত্রা পথ। তারপর তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ল‍্যাপটপ ও স্মার্টফোনের মতো অত‍্যাধুনিক গ‍্যাজেট। বর্তমানে করোনা অতিমারিতে লকডাউনের জেরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যা এক অত‍্যাবশ‍্যকিয় উপাদান। সেই গ‍্যাজেটের মাধ‍্যমে পড়াশোনার পাশাপাশি চলে ফুটবল ও ক্রিকেটের মতো নানা ধরণের মনোরঞ্জক গেমের ব‍্যবস্থা। মাতা-পিতা গোটা ব‍্যাপারটা মেনে নিলেও পাঠাতে চায়না খেলার মাঠে। যেখানে স্বয়ং বিবেকানন্দও শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধূলাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছিলেন, তা শুধু নীতিকথা হয়েই পৃষ্টাবন্দী হয়ে পড়ে থাকে দুই মলাটের মাঝে। বাস্তব জীবনে যে নীতিবাক‍্যের হয়না কোন সার্থক প্রয়োগ।
তবে একটু ভিন্ন চিত্র ধরা পড়ল উওর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার বসিরহাট হাইস্কুল মাঠে। ভারতীয় ফুটবলে ফুটবলার তৈরীর সাপ্লাই লাইন হিসেবে পরিচিত বসিরহাট থেকে প্রচুর ফুটবলার একসময় উঠে আসতো। কিন্তু ইদানিং সেই সংখ্যাটা অনেক কমেছে। সেই সমস্যা সমাধানের সেখানে সকাল থেকে শুরু করে বিকালের পড়ন্ত সূর্যের আলো গায়ে মেখে কয়েকদল কচিকাচা মেতে থাকে ফুটবলে। তাদের দুচোখ ভরা স্বপ্ন হয়তো বড়ো হয়ে কলকাতার তিন প্রধান মোহনবাগান-ইষ্টবেঙ্গল-মহামেডান সহ ভারতের নামী ক্লাবে ভারতের জাতীয় দলে ঠাঁই পেয়ে দেশের তথা জন্মভূমির নাম উজ্জ্বল করা। তাদের পাশে দাঁড়িয়ে, সেই স্বপ্ন সার্থক করার উদ্দেশ্যে বসিরহাট ভেটারেন্স প্লেয়ার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন বিনামূল্যে একটি ফুটবল কোচিং ক‍্যাম্প চালায়। সেই ক‍্যাম্পে এসে ভারতের প্রাক্তন স্বনামধন্য ফুটবল তারকা ও বসিরহাটের ভূমিপুত্র মিহির বসু, রবিন ঘোষ।
 ফুটবলার যোগেশ মন্ডল বলেন, “বসিরহাটে ফুটবলের  সঠিক পরিকাঠামো তৈরির দরকার। বিএসএসএকে আরও দায়িত্ব নিয়ে বিভিন্ন কোচিং ক‍্যাম্পগুলিকে সবরকম সাহায্য প্রদান করতে হবে। বহু ফুটবল প্রতিযোগীতা করতে হবে প্রতিভাবান ফুটবলার তুলে আনার জন‍্য।”
 প্রাক্তন ফুটবলার ও কোচ অনুষ্টুপ সরকার বলেন, “খেলার সুবাদে অন‍্যান‍্য রাজ‍্যে গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার স্থানীয় ফুটবলাররা ভারতের বিভিন্ন জাতীয় স্তরের ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। কিন্তু বাংলায় তিন প্রধানে বাঙালি থেকে অবাঙালি ফুটবলারের সংখ্যা বেশি। তাই পিতা মাতা সহ কোচিং ক‍্যাম্পগুলিকে এগিয়ে আসতে হবে নতুন প্রতিভা তুলে আনার।” ফুটবল জগতে এই মহৎ কাজ করার জন‍্য বসিরহাট ভেটারেন্সের সদস্যদে্য সাধুবাদ জানিয়েছেন ভারতের প্রাক্তন ফুটবলার থেকে শুরু করে বসিরহাট বাসী।

টাচ করুন, দেখুন আপনার প্রিয় অভিনেত্রীদের অসংখ্য ফটো