‘বিধাননগরের ১০ দিগন্ত: ইস্তেহার তৃণমূলের প্রতিশ্রুতি

রেশমি চন্দ্র

‘বিধাননগরের দশ দিগন্ত’, পুরভোটের আগে ইস্তেহার প্রকাশ তৃণমূলের। ২২ জানুয়ারি পুরভোট বিধাননগর সহ ৪ কেন্দ্রে। তার আগেই শুক্রবার ইস্তেহার জনসমক্ষে আনল ঘাসফুল শিবির। এদিন  ইস্তাহারের  আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করলেন সৌগত-সুজিতরা। ইস্তেহারে নিকাশি-নর্দমা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সড়ক পরিকাঠামো, জল সরবারহ, শিক্ষা সহ  ‘বিধাননগরের ১০ দিগন্ত’ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

এদিন ইস্তাহার প্রকাশ করে  ‘বিধাননগরের ১০ দিগন্ত’ এর প্রথমেই নিকাশি-নর্দমা ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলেছে তৃণমূল। যেহেতু একনাগাড়ে ভারী বর্ষার জেরে চরম ভোগান্তির মুখে সম্মুখীন হয় বিধাননগরবাসী, তাই জলনিকাশিকে এবার খুবই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, বৃষ্টির এই জমা জলের মোকাবিলায় চিরস্থায়ী সমাধানের জন্য বিশেষজ্ঞদেরও পরামর্শও নেওয়া হবে। এবং বর্তমানের ৫১টি পাম্পিং স্টেশনের উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ হবে। ভূগর্ভস্ত নর্দমাগুলির পলি সংষ্করণ করা হবে। খালগুলিরও পুনরুদ্ধার করা হবে।

দ্বিতীয়ত, মাইক্রো সারফেসিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে বর্তমান সড়কগুলির সংষ্কার করা হবে। নিয়মিত রক্ষাণবেক্ষণ সহ ৫ বছরে ৬৯.৫ কিমি কাঁচা রাস্তায় ব্ল্যাকটপিং করা হবে। অবৈধ পার্কিংয়ের নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ওয়ার্ড ও বাজারে পার্কিংয়ের জন্য অর্থ নির্ধারণ করা হবে।

তৃতীয়ত, জল সরবারহ দিকেও নজর রাখছে ঘাসফুল শিবির। প্রতিশ্রুতি হিসেবে তৃণমূলের তরফে জানানো হয়েছে, নিউটাউন ওয়াটার প্ল্যান্টের ধারণ ক্ষমতা বাড়ানো হবে। জল সরবারহের মাস্টার প্ল্য়ান তৈরি করতে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হবে। পাশাপাশি জল সংগ্রহ করা হবে এবং পুনরায় ব্যবহারযোগ্য ধারক তৈরি করা হবে।

চতুর্থত, তৈরি করা হবে নির্মল বিধাননগর। অর্থাৎ বজ্য পদার্থ দূরকরণ নিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তৃণমূল। ইস্তাহারে বলা হয়েছে, আগামী ৫ বছরের মধ্যে একটি কঠিন বজ্য প্রক্রিয়াকরণ প্ল্যান্ট নির্মান করা হবে। পরিবেশবান্ধব এবং প্লাস্টিকমুক্ত বিধাননগর গড়ে তোলা হবে। বিধানগরকে আরও সবুজ করে তুলতে ১০ হাজার চারা রোপণ করা হবে।

পঞ্চমত, নাগরিক বান্ধব বিধাননগর গড়ে তোলার কথাও বলা হয়েছে ইস্তেহারে। বিধাননগরে রাস্তায় ৩০ মিটার অন্তর আলোকবাতি, নাগরিকদের নিরাপত্তায় ৪০০ টি নতুন সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। গড়ে তোলা হবে আরও শৌচালয়। আগামী ৫ বছরে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করে তোলা হবে। এবং পার্কের সৌন্দর্যায়ন করা হবে।

ষষ্ঠতম ‘দিগন্তে’ তৃণমূল শিক্ষা নিয়ে একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ২টি বর্তমান পুর বিদ্যালয়কে মডেল বিদ্যালয়ে উন্নীত করা। পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা সহ উন্নত মানের পাঠক্রম চালু করা হবে। বিদ্যালয়ের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে।

সপ্তমত, বিধানগরবাসীর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপরেও নজর দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ইস্তাহারে জানানো হয়েছে, অত্যাধুনিক চিকিৎসার সুবিধা সহ বিদ্যমান ১২টি নগরস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলির উন্নয়ন করা হবে। দিবারাত্র খোলার ব্যবস্থা করা হবে। ১০টি নতুন ডেঙ্গু সনাক্তকরণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। শিশু থেকে প্রবীণ নাগরিক, সকলকেই টিকা দান করে ১০০ শতাংশ টিকা দান করা হবে।

অষ্টমত, সমাজ কল্যাণের দিকে নজর দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। মডেল দরিদ্রপল্লির উদ্যোগ, পুরকর্মীদের কল্যাণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে বলা হয়েছে। প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বৃদ্ধাশ্রম এবং প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্র গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে।

নবম দিগন্তে, ইস্তাহারে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তৃণমূল। ওয়ার্ড পরিকল্পক কমিটি থেকে শুরু করে ওয়ার্ড স্তরের অভিযোগ নিষ্পত্তি সেল, পাড়ায় সমাধানের ইস্যুতে মোবাইল অ্যাপ এবং অনলাইনে পুর পরিষেবা নিয়েও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

 ‘বিধাননগরের ১০ দিগন্ত’ এর অন্তিম অর্থাৎ দশম প্রতিশ্রুতিতে তৃণমূল জানিয়েছে, সংষ্কৃতি এবং পর্যটন নিয়েও উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অনুষ্ঠিত হবে বিধাননগরের বার্ষিক উৎসব। বিধাননগরের দেওয়াল এবং রাস্তাগুলিকে সুন্দর করে তোলার লক্ষ্যে স্থানীয় কারিগরদের উৎসাহিত করার জন্য একটি পাইলট আর্ট ডিস্ট্রিট প্রকল্প গড়ে তোলা হবে।


টাচ করুন, দেখুন আপনার প্রিয় অভিনেত্রীদের অসংখ্য ফটো